উপজেলা বিএনপির নেতারা বলেছেন, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তবে পৌর বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও কর্মসূচির ব্যানারে স্থানীয় এক নেতার ছবি থাকায় উপজেলা কমিটির কর্মসূচি বয়কট করেন তাঁরা।

রাজধানীর মিরপুরসহ দেশজুড়ে বিএনপির চলমান কর্মসূচিতে বাধা, পুলিশের গুলিবর্ষণ, সরকারদলীয়দের হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল চারটায় সারিয়াকান্দি পৌর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের গার্লস স্কুল মোড় থেকে শুরু হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পৌর বিএনপির সভাপতি সাহাদৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম প্রমুখ।

একই সময়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মাদ্রাসা মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরে আজমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল মাহমুদ, বিএনপি নেতা আক্তারুজ্জামান বুলবুল, আমিরুল মোমিন, এম আর রফিক, মিলন হোসেন, আবদুল মান্নান প্রমুখ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির দলীয় কর্মসূচির ব্যানারে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেনের ছবি ছিল। ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলা ও পৌর বিএনপির সম্মেলন হয়। সেখানে জাকির-সমর্থিত প্যানেল উপজেলা কমিটির শীর্ষ পদ পান। পৌর কমিটির শীর্ষ পদ পান মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক নেতা ও দলের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের সমর্থকেরা।

পৃথক কর্মসূচির বিষয়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির পদ-পদবি পাওয়া নেতারা দলের আদর্শ ভুলে বিশেষ নেতাকে তুষ্টিতে ব্যস্ত। উপজেলার কোনো নেতার ছবি দলীয় কর্মসূচির ব্যানারে থাকতে পারে না। অথচ উপজেলা বিএনপির ব্যানারে জাকির হোসেনের ছবি ছিল। এ কারণে উপজেলা বিএনপির কর্মসূচি বয়কট করে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা।

জানতে চাইলে সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরে আজম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারিয়াকান্দি বিএনপিতে কোনো বিভাজন নেই। আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন আমাদের রাজনৈতিক কৌশল। ব্যানারের ছবি নিয়ে আপত্তির বিষয়ে এই নেতা বলেন, জাকির হোসেন আগামী নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি সারিয়াকান্দি বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। এ কারণে তাঁর ছবি ব্যানারে রাখা হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন