রাজশাহীতে খাদ্যপণ্যের ডিপোতে আগুন, পুড়েছে কোটি টাকার সেমাই, বিস্কুট, জুস
রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌর এলাকার শ্যামপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে একটি খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী সুপার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সাড়ে আট ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। মালিকপক্ষের দাবি, আগুনে এক–দেড় কোটি টাকার বেশি খাদ্যপণ্য পুড়েছে। তিরি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন।
গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। রাত পৌনে ১১ট থেকে আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট চারটি ইউনিট অংশ নেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ডিপোটি থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হতো। এখান থেকে পাঁচটি জেলায় সেমাই, জুস, পানি, বিস্কুটসহ নানা পণ্য সরবরাহ করা হতো। রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে সম্প্রতি চারটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ পণ্য মজুত করা হয়েছিল ওই ডিপোতে।
ডিপোর মালিক জুবাইদুর রহমান (পলাশ) জানান, ২০১৯ সালে ব্যাংকঋণ নিয়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর অধীন ১৪ জন স্টাফ, ৭৫-৮০ জন ডিলার এবং তাঁদের মাধ্যমে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন বিক্রয় প্রতিনিধি ও সরবরাহকর্মী কাজ করতেন। জুবাইদুর বলেন, সোমবার রাতে তারাবিহর নামাজ শেষে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে ডিপো বন্ধ করে সবাই বাড়ি যান। ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে আগুন লাগার খবর পান তিনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, গুদামের ভেতরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পানি দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
ডিপোর মালিকের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে ডিপোর ভেতরে কাঠির মতো কিছু পড়তে দেখা গেছে, যা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তবে তিনি কাউকে সরাসরি অভিযুক্ত করেননি। তাঁর ভাষ্য, দুর্ঘটনা কিংবা নাশকতা—উভয় সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা উচিত। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।
ডিপোতে ধূমপান, কয়েল বা আগুন–জাতীয় কোনো কিছু ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল বলে দাবি করেন মালিক জুবাইদুর। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি, যদিও যেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সেখানে বিদ্যুতের সংযোগ তেমন ছিল না বলে তিনি জানান।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা এনায়েত উল হক জানান, খবর পেয়ে প্রথমে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে আরও ইউনিট যুক্ত হয়। মোট চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তিনি আরও বলেন, এলাকায় পানির উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। ড্রেন থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। পরে সদর স্টেশন থেকে বিশেষ পানিবাহী যান ও অতিরিক্ত পাম্প পাঠানো হয়। আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরও ডিপোর বিভিন্ন অংশ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আগুন নেভাতে রাতেই ডিপোর বিভিন্ন পাশের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। ভেতরে পোড়া সেমাই, বিস্কুট, জুস ও পানির বোতলের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেক শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা সেখানে ভিড় করেন।
ডিপোর কর্মী মোহাম্মদ শাহিন আলী বলেন, ‘আমরা ১২-১৩ জন এখানে সরাসরি কাজ করতাম। কেউ চার বছর, কেউ ছয়-সাত বছর ধরে আছি। আমাদের পরিবার এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এখন আমরা কী করব, বুঝতে পারছি না।’
মালিক জুবাইদুর রহমান বলেন, ‘দুটি ব্যাংকে আমার ঋণ রয়েছে। আমার আর কিছুই নেই। এখন কোথা থেকে কীভাবে শুরু করব, জানি না। আমি সরকারের কাছে প্রণোদনা বা আর্থিক সহায়তা চাচ্ছি।’