আন্দোলনের মুখে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম স্থগিত

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুরেছবি : প্রথম আলো

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অপতথ্য ছড়িয়ে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা এবং উসকানি দিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে সাংবাদিক ফোরামের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও অধিকতর তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ রোববার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এই কর্মসূচি চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল—সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নারী শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে উপাচার্যসহ অন্যরা প্রশাসনিক ভবনে যেতে পারছিলেন না। পরে বেলা দুইটার দিকে তালা খুলে উপাচার্যসহ কর্মকর্তাদের ভবনে প্রবেশ করতে দিয়ে পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত এলে বিকেল চারটায় তালা খুলে দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজের অযাচিত ও অপব্যবহারের ফলে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ১১ জুলাই চতুর্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব-২০২৬ এর প্রস্তুতিমূলক কাজ চলাকালীন ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে আগত ৬ জন ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীর ভিডিও ধারণ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানতে চাইলে তারা ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ফোরামের একজন সদস্য ওই ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরে বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের একজন ছাত্রীর ছবিসহ পোস্ট করেন। এতে ওই ছাত্রী ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হন। বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরামের অসতর্কতামূলক পোস্ট প্রদান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পোস্টটি অপসারণের জন্য বলা হলেও অহেতুক বিলম্বের কারণে বিষয়টি গুরুতর আকার ধারণ করে যার জন্য উক্ত সংগঠনটি অনেকাংশে দায়ী।

চিঠিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাইবার বুলিং বন্ধকরণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও একাডেমিক/প্রশাসনিক সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ‘জাককানইবি সাংবাদিক ফোরামের’ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হলো।

নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রাফেল আফ্রাদ বলেন, ‘আমরা ভিডিওগুলো প্রচারে নিষেধ করি। কিন্তু এর পরও তারা এই ভিডিও কাটপিস করে ভিউ ব্যবসার জন্য ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাদের পেজ থেকে প্রচার করে, যার ফলে এলাকাবাসীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।’

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক পেজ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে সাংবাদিক ফোরাম। ফোরামের দপ্তর ও প্রচর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ক্যাম্পাসের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নারী শিক্ষার্থী হেনস্তার প্রতিবাদে সাংবাদিক ফোরামের এই বিবৃতি দেন। এতে বলা হয়েছে, সাংবাদিক ফোরামের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওটিতে সচেতনতার স্বার্থে কেবল ঘটনাস্থলের বাস্তব চিত্রই তুলে ধরা হয়েছিল। কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করা বা স্থানীয় কোনো জনগোষ্ঠীর আবেগে আঘাত হানার কোনো উদ্দেশ্য সাংবাদিক ফোরামের ছিল না।

সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম স্থগিত করা প্রসঙ্গে সংগঠনের সভাপতি শাকিল বাবু বলেন, ‘কী কারণে প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা সবার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানাব।’