মারধরের মামলায় আটক বিএনপি নেতাকে ‘মব করে’ ছিনিয়ে নিলেন অনুসারীরা

একটি মামলায় বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর অনুসারীরা পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামেছবি: সংগৃহীত

যশোরের শার্শায় একটি মামলায় আটক বিএনপি নেতাকে ‘মব সৃষ্টি করে’ পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে এ ঘটনার ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই বিএনপি নেতার নাম মোস্তফা কামাল (মিন্টু)। তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। তাঁর দাবি, মামলা কিংবা ওয়ারেন্ট (গ্রেপ্তারি পরোয়ানা) ছাড়াই পুলিশ জোর করে তাঁকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী পুলিশকে বাধা দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছুটিতে বেড়াতে আসা এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখমের মামলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্যামলাগাছি গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে থেকে মোস্তফা কামালকে আটক করে শার্শা থানার পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ দল। এ সময় তাঁর সমর্থকেরা গ্রামের বিভিন্ন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে প্রতিরোধের আহ্বান জানান। মাইকের ঘোষণা শুনে কয়েক শ নারী-পুরুষ সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলেন। এরপর মোস্তফা কামালকে ছিনিয়ে নেন তাঁরা। একপর্যায়ে পুলিশ ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের মামুন হাসান (জুয়েল) বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেডকোয়ার্টারে নায়েক পদে কর্মরত। ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে এসে পূর্ববিরোধে তিনি হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামুন হাসানের ছোট ভাই মেহেদী হাসান ৪ জুন শার্শা থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনের নামে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল। অপর আসামিরা হলেন মোস্তফার ভাই লাল্টু হোসেন ও পিন্টু হোসেন, আবদুস সালামের ছেলে সুজন হোসেন ও সবুজ হোসেন, আলাউদ্দিনের ছেলে টিটন হোসেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ সদস্যকে মারপিটের ঘটনায় তিনি জড়িত নন। তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা নেই। ওয়ারেন্ট ছাড়াই জোর করে পুলিশ তাঁকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে তাঁকে মুক্ত করেছেন। সুনির্দিষ্ট মামলা–ওয়ারেন্ট ছাড়া পুলিশের এমন আচরণ অপেশাদার। পুলিশ প্রভাবিত হয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে এসেছিল বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।

জানতে চাইলে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, নিয়মিত মামলায় ওয়ারেন্ট ছাড়াই আসামি গ্রেপ্তার করা যায়। পুলিশ সদস্যকে পেটানোর মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামালকে গ্রেপ্তারের সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মব সৃষ্টি করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সদস্য হাসান মামুন কর্মস্থলে থাকলেও গ্রামে থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসান মামুনের চাচা শফিয়ার রহমান বলেন, তাঁর ভাইয়ের (মামুনের বাবা) বালুর ব্যবসা ছিল। প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের উত্তোলন করা বালু আছে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সেই বালু বিক্রি কিংবা সরিয়ে নিতে দেননি আসামিরা। তাঁরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হলেও বালু বিক্রি করতে দেননি। এ জন্য তাঁরা তাঁর ভাইয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জের ধরে মামুন হাসানকে মারধর করা হয়। মামলা ও পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে আসায় তাঁরা আরও ক্ষুব্ধ। তাঁরা সবাই আতঙ্কে আছেন।