প্রতিদ্বন্দ্বী দুই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সরকার। আজ শনিবার ওই ইউনিয়নে সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোদাশিমলা বাজারে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে ব্যালটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচনের কথা ছিল। সম্মেলনে মোট ভোটার ২৫১। সম্মেলনে আমার জয় অনেকটাই নিশ্চিত হওয়ায় ষড়যন্ত্র করা হয়। সম্মেলন উপলক্ষে গতকাল রাতে গোদাশিমলা বাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে নেতা-কর্মীদের নিয়ে চা খাচ্ছিলাম। নিশ্চিত পরাজয় জেনে মাহমুদুল শহর থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এনে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চারটি গুলিও ছোড়া হয়। এ ঘটনায় আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

অন্যদিকে যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান সরকার বলেন, সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ার পর থেকে রফিকুল অস্থির হয়ে যান। এরপর তিনি নানাভাবে তাঁকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। গতকাল রাতে তিনি জামালপুর শহরে ছিলেন। গোদাশিমলা বাজারের পাশেই তাঁর বাড়ি। ওই বাজারে তাঁর কয়েকজন লোক বসে ছিলেন। সেখানে রফিকুল ও তাঁর বহিরাগত লোকজন গিয়ে গালিগালাজ করছিলেন। পরে তিনি শহর থেকে সেখানে যান। এ সময় রফিকুলের সমর্থকেরা তাঁর ওপর হামলা করেন এবং হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়েন। এতে তিনিসহ তাঁর চার সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। উভয় পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে কোনো গুলি ছোড়ার আলামত পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী অনেক লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও গুলি ছোড়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন