পঞ্চগড়ে ফিলিং স্টেশনে ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, আসামি ৩২৫

মামলাপ্রতীকী ছবি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিদর্শনের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পেশকার সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। এতে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৩০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় সরকারি কাজে বাধাদান, সরকারি কর্মচারীকে মারধরসহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে হামলার শিকার হন দেবীগঞ্জের ইউএনও সবুজ কুমার বসাক। এ সময় হামলাকারীদের ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন আনসার সদস্য তৈয়াবুল ইসলাম।

গতকাল সকাল থেকে উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহের কথা ছিল। দুপুরে এসব ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে বের হন ইউএনও সবুজ কুমার বসাক। এ সময় তিনি খবর পান, ভাউলাগঞ্জের জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে বিশৃঙ্খলার কারণে জ্বালানি তেল বিতরণ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। পরে তিনি সেখানে গিয়ে মোটরসাইকেলের একটি দীর্ঘ সারি দেখতে পান। কেউ কেউ আবার ফুয়েল কার্ড ছাড়াই জ্বালানি তেল দাবি করছিলেন। যাঁদের ফুয়েল কার্ড নেই, তাঁদেরকে সারির শেষ মাথায় চলে যেতে বলেন ইউএনও। কেউ কেউ চলেও যান।

এ সময় সেখানে থাকা এক মোটরসাইকেল আরোহীর ফুয়েল কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ কোনো কাগজপত্র না থাকায় তাঁকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন ইউএনও। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কিছু দূর থেকে একদল লোক মিছিলের মতো করে এসে ইউএনওর ওপর হামলা চালান। এ সময় হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে ইউএনওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তৈয়াবুল ইসলাম নামের এক আনসার সদস্য আহত হন।

আরও পড়ুন

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ইউএনওকে রক্ষা করে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে নিয়ে নিরাপদে রাখেন। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে যায়। আহত আনসার সদস্যকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে ওই ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।