কুড়মালি ভাষা বাঁচাতে লড়াই করে যাচ্ছেন তিনি
অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মতোই মাহাতোদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। তাঁদের কুড়মালি ভাষা, ঝুমুরগীত এবং কুড়মালি সাহিত্য ভান্ডারের রয়েছে সুপ্রাচীন ঐতিহ্য।
কুড়মালি ভাষার গবেষকদের মতে, কুড়মালি ভাষা ও চর্যাপদের মধ্যে একটা সম্পর্ক রয়েছে। ভারতে এই ভাষার অনেক সাহিত্যকর্ম থাকলেও বাংলাদেশে এমন কিছুই নেই বললেই চলে। বর্তমানে চর্চার অভাব ও বাংলা ভাষার চাপে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর অন্যান্য ভাষার মতো কুড়মালি ভাষাও হারিয়ে যেতে বসেছে।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় কুড়মালি ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় চালু করা হয়েছে পাঠশালায় পাঠদান কার্যক্রম। গত বছরের অক্টোবরে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আটঘরিয়া গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। এখানে সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার পাঠদান চলে। এ ভাষার লেখক ও গবেষক উজ্জ্বল মাহাতো এ পাঠশালা স্থাপনের উদ্যোগ নেন।
‘গিদরাগিলাক কুড়মালি পড়হাও, নেগাচার শিখাও’ (ছেলেমেয়েদের কুড়মালি পড়াও, সংস্কৃতি শেখাও) প্রতিপাদ্যে মাহাতোদের মায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা দেওয়ার এ পাঠশালায় ৫০ জন মাহাতো শিশুশিক্ষার্থী রয়েছে।
উজ্জ্বল মাহাতো প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৩ সালে কুড়মালি ভাষার প্রথম উপন্যাস কারাম লেখেন তিনি। এ ছাড়া মুজিব বর্ষে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ কুড়মালি ভাষায় অনুবাদ করে কাঁথুয়েঁন: মাহাতো ডিকশনারি নামে বই বের করেন। বইগুলো তাঁদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন উজ্জ্বল মাহাতো।
দেশের সমতলে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, খুলনাসহ ১৮টি জেলার ৩৩টি উপজেলায় মাহাতোদের বাস। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় বেশিসংখ্যক মাহাতো জনগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছে জানিয়ে উজ্জ্বল মাহাতো বলেন, মৌলভীবাজার ও সিলেটে বসবাসরত মাহাতো জনগোষ্ঠীর মানুষ মূলত চা–শ্রমিক, অন্যরা কৃষিমজুর।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, বাংলাদেশে বাংলা ভাষার বাইরে মোট ৪০টি মাতৃভাষা রয়েছে। যেখানে কুড়মালি ভাষার স্থান হয়নি। উজ্জ্বল মাহাতো বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক। এই ভাষায় রয়েছে অনেক গীত, ঝুমুর, গল্প; যা কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এই ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ জরুরি। না হলে ভাষাটি গবেষণা ও পরিচর্যার অভাবে হারিয়ে যাবে।’
মাহাতো ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাপলা রানী মাহাতো প্রথম আলোকে বলেন, চেষ্টা করা হচ্ছে কুড়মালি ভাষা টিকিয়ে রাখার জন্য। এ জন্য সরকারেরও সহযোগিতা দরকার।