হাওরপারের গ্রামের পথে পথে সবুজ মায়া

ধানখেতের মধ্যে ইট বিছানো পথ। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বড়বাড়ি মাঠেছবি: প্রথম আলো

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের ছোট একটি গ্রাম বড়বাড়ি। মেঠো পথ ভেঙে গ্রামে যেতে আমন ধানের সবুজ খেত আর শরতের আকাশ যেন স্বাগত জানায়। রোদ আর মেঘের লুকোচুরি খেলা চলে সারা পথজুড়ে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের আমতলা থেকে শ্যামরারবাজারের দিকে যেতে চোখে পড়ে এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। আমন ধানের সবুজ খেত রোদে ঝলমল করছে। কোথাও মেঘের ছায়া এসে পড়ছে খেতে, আবার কিছুক্ষণ পরই রোদে চকচক করছে সবুজে।

এক খেত থেকে অন্য খেতে উড়ে চলেছে বকের ঝাঁক। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার বড়বাড়ি মাঠে
ছবি: প্রথম আলো

শ্যামরারবাজার পেরিয়ে সিংকাপন গ্রাম হয়ে বড়বাড়ির দিকে যেতে যেতে দেখা যায় গ্রামের আরেক রূপ। পাকা সড়কের দুই পাশে বাড়িঘর, ধানখেত, সবজির খেত, দু–একটি পুকুর, পাড়ে সুপারিগাছ। কোনো বাড়ির দেয়াল ঘেঁষে মাধবীলতা, কোথাও ফুটে আছে টকটকে জবা। পাকা সড়ক শেষ হলে শুরু হয় ইট বিছানো পথ, দুই পাশে সবুজ ঘাস বিছানো। পথের মাঝখানে পায়ে চলার স্থানটি সাদা মাটির রেখা হয়ে আছে।

নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার বড়বাড়িতে
ছবি: প্রথম আলো

আরও কিছুটা এগোলে আঁকাবাঁকা মেঠো পথ। প্রাণজুড়ানো হাওয়া, সবুজের মায়া এখানে পথে পথে ছড়িয়ে আছে। খেতের আল ধরে কোথাও জাল পেতে মাছ ধরছেন লোকজন। শিশুরাও ছোট জাল হাতে ছুটছে এদিক-ওদিক। ধানের খেতে সাদা বকের দল এসে সবুজের মধ্যে তৈরি করেছে অন্য রকম এক দৃশ্য। কখনো ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাচ্ছে তারা। আকাশে চিলও চক্কর কাটছে।

কড়া রোদেও ঘরে বসে নেই শিশুরা। তাদের মতো করে মাছ ধরতে বেরিয়েছে পথে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার বড়বাড়ি মাঠে
ছবি: প্রথম আলো

বড়বাড়ি গ্রামের উত্তরে বিশাল কাউয়াদীঘি হাওর। হাওরে তখন ফুটে আছে শাপলা-শালুক, দূরে সাদা জলরাশি। ছোট ছোট নৌকায় জেলেরা ছুটছেন মাছ ধরতে। ধানখেত, গ্রাম ও হাওর মিলে জায়গাটি শরতের দিনে হয়ে উঠেছে মন ভরে দেখার মতো।

এঁকেবেঁকে পথ গেছে গ্রামের দিকে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার বড়বাড়ি মাঠে
ছবি: প্রথম আলো

হাওরের কাছের মানিকনগর গ্রামের দোকানের সামনে গাছতলায় বসে কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছেন। মাঠের কাজ শেষে কেউ সেখানে এসে জিরিয়েও নিচ্ছেন। তপ্ত দুপুরেও গাছের ছায়ায় শীতল বাতাস। কেউ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছেন অবসরটুকু অন্যদের সঙ্গে কাটাতে। এখানে এলে মনে হয়, ঘুরে বেড়াতে শুধু পাহাড়–সাগর-নদীই নয়, গ্রামের শান্ত সবুজ বুকটিও হতে পারে প্রশান্তির, ভালো লাগার।