রুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে গণভোটের দাবি, প্রশাসন ‘ভেবে দেখবে’

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)ফাইল ছবি

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চলবে কি না, এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গণভোটের দাবি জানিয়েছেন। এই গণভোট ১০ দিনের মধ্যে করতে হবে, এমন আলটিমেটামও দিয়েছেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বিষয়টি নিয়ে কী করা যায় তা ভেবে দেখা হবে। গঠন করা হতে পারে একটি কমিটি।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি ঘটনায় রুয়েটে গুপ্ত রাজনীতিবিরোধী দেয়াললিখন লেখে ছাত্রদল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে ‘নো পলিটিকস’ লেখা–সংবলিত একটি ব্যানার পোড়ানো হয়। ছাত্রদল ব্যানারটি পোড়ায় বলে অভিযোগ। এসবকে কেন্দ্র করে গত রোববার গভীর রাতে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসে। ওই দিন রাতে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান হয়। পরদিন গত সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন। ঠিক পাশে রুয়েটের প্রধান ফটকের পাশেই অবস্থান নেন ছাত্রদল–সমর্থিত শিক্ষার্থী। পরে শিক্ষার্থীরা গণভোটসহ তিন দফা দাবি জানিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।

রুয়েটে আগে থেকেই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তাঁদের ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে বিভিন্ন সংগঠনের আড়ালে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ আছে। ছাত্রদল রুয়েটে প্রকাশ্য রাজনীতির পক্ষে আছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষের দাবিগুলো হচ্ছে—ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বহিষ্কার; ১০ আগস্ট ২০২৪ পাস হওয়া প্রজ্ঞাপনে সব ধরনের ও সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল, এর সপক্ষে প্রশাসনের সঠিক জবাবদিহি; নির্বাচনকালীন কমিটি গঠন করে রুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে রাজনীতি চায় কি চায় না এ বিষয়ে প্রশাসনকে ১০ দিনের মধ্যে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।

আন্দোলনকারীদের একজন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিদোয়ান সিদ্দিকী বলেন, তাঁরা তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে গণভোট ১০ দিনের মধ্যে আয়োজন করতে হবে। প্রশাসন এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে এটা আদায়ে আবার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এ বিষয়ে সুরাহা প্রয়োজন।

ছাত্রদল–সমর্থিত শিক্ষার্থীদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আরাফ মাসুদ। তিনি জানান, প্রশাসন যদি গণভোট করতে চায়, তাতে তাঁরাও রাজি আছেন। তবে সেটা হতে হবে সুষ্ঠু। সেদিন প্রশাসন ভবনের সামনে বড়জোর দুই থেকে আড়াই শ শিক্ষার্থী ছিলেন। তাও অনেককে জোর করে আনা হয়েছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে তো ৫ হাজারের মতো শিক্ষার্থী আছেন। আরাফ মাসুদ বলেন, এখানে নো পলিটিকসই একধরনের পলিটিকস, এটা এখন সবাই জানে। তাঁরা ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি চান না। শিগগিরই তাঁরা প্রশাসনকে এ বিষয়ে জানাবেন। সেখানে প্রকাশ্য রাজনীতির দাবি জানানো হবে। এ বিষয়ে আইনগত বিষয়ের দিকেও যদি যেতে হয় সেটিও করা হবে।

গত সোমবার প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জমা দেওয়ার পর ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আজ বুধবার ক্যাম্পাসে গিয়ে এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাঁদের কেউ ক্যাম্পাসে রাজনীতির পক্ষে, কেউ বিপক্ষে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তখন দাবি উঠেছিল যে ক্যাম্পাসগুলোতে যে ধরনের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি চলে, তা বন্ধ হোক। কিন্তু রাজনীতি বন্ধ করার পর দেখা গেল গোপনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছেই। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য রাজনীতি হোক। তবে সেটা হোক শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, তাঁদের পক্ষে। রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলে সেখানে বেশি অন্তঃকোন্দল হয়।

রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক রবিউল ইসলাম সরকার প্রথম আলোকে বলেন, যেদিন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন, তখন উপাচার্য ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তিনি উপাচার্যের কাছে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি কমিটি হবে। ক্যাম্পাস এখন শান্ত। শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে আছেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক এস এম আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তিনি পেয়েছেন। বিষয়গুলো ভেবে দেখা হবে, একটি কমিটি গঠনের চিন্তা করা হয়েছে। এটি শিগগিরই করা হবে।