নদীতে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন যুবক, মাইন বিস্ফোরণে পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন
কক্সবাজারের উখিয়ায় নাফ নদীর শূন্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবকের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পালংখালী সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় জেগে ওঠা চর চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. ইউনুছ (২৫)। তিনি উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৯) ডি-২ ব্লকের সবুল আহমদের ছেলে। বিজিবি ও স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, ইউনুছ এলাকাটিতে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন। আহত অবস্থায় স্থানীয় জেলেরা তাঁকে উদ্ধার করে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখান থেকে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর আক্রমণ ঠেকাতে দুই বছর ধরে নাফ নদীতে জেগে ওঠা চরসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় শত শত স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। কয়েক মাস ধরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে লোকজন বেশি আহত হচ্ছেন, এর বেশির ভাগই রোহিঙ্গা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রোহিঙ্গা নেতারা জানান, সম্প্রতি উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরগুলোতে খাদ্যসহায়তা কমিয়ে আনা হয়েছে। তাই অর্থসংকটে পড়ে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার আশ্রয়শিবির থেকে বেরিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে নাফ নদীতে নামছে। তারাই বেশি মাইন বিস্ফোরণে আহত হচ্ছে।
এর আগে ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়ার বালুখালী সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীর শূন্যরেখার নারিকেলবাগান এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. সাদেক নামের এক রোহিঙ্গা আহত হন। তিনি বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১০) এফ-১৩ ব্লকের বাসিন্দা বশির আহমদের ছেলে। ২৯ মার্চ দুপুরে উখিয়া সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবদুল হাকিম (১৫) নামের এক কিশোরের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৯) এ ব্লকের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিমের ছেলে। এর কয়েক দিন আগে একই উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে শহীদুল ইসলাম (২৫) নামের আরেক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন। তাঁরও একটি পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়। তিনি একই আশ্রয়শিবিরের এফ-৫ ব্লকের বাসিন্দা চান মিয়ার ছেলে।