গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আমল মাসঊদের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার গভীর রাতে বিনোদপুরের মণ্ডলের মোড় এলাকায় তাঁর বাড়ির দরজার সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে। তবে কে বা কারা এটি করেছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগও কেউ করেনি। তাঁরা দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইফতিখারুল আমল মাসঊদের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ঘটনার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘ফ্যাসিবাদী অপশক্তির জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম। কোনো রক্তচক্ষুর ভয়ংকর হুমকি অন্যায়ের প্রতিবাদ করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তবে তারা কখনো বাড়ি পর্যন্ত আসার ঔদ্ধত্য দেখাতে পারেনি। কিন্তু আজ আমার বাড়ির দরজায় গভীর রাতের অন্ধকারে হামলার সাহস দেখিয়েছে কাপুরুষের দল! এরা কারা? এদের শিকড়সহ উৎপাটনের দাবি জানাই।’
এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ভেবেছিলাম বাড়ির গেটে কিংবা গেটের বাইরে। কিন্তু গিয়ে দেখলাম একেবারে বাড়িতে হামলা হয়েছে। গতকালই ওনার অসুস্থ বাবা হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাসায় এসেছেন। জানি না শেষ কবে একজন শিক্ষকের বাড়িতে রাতের আঁধারে এভাবে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। আমরা শঙ্কিত, স্তম্ভিত।’
জড়িতদের শাস্তি দাবি
হামলার প্রতিবাদে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। কর্মসূচিতে এ হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ‘আমার সোনার বাংলায় সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ক্যাম্পাসে বোমাবাজি বন্ধ কর’, ‘ককটেল ও বোমাবাজির অপরাজনীতি বন্ধ করুন’, ‘মাসউদ স্যারের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’, ‘সন্ত্রাসীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠিন বিচারের আওতায় আনতে হবে’ প্রভৃতি লেখা–সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব বলেন, ‘মাসউদ স্যার জুলাই আন্দোলনে আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। রুয়া (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন) নির্বাচনে তিনি একজন প্রার্থী। রুয়া-রাকসু নিয়ে যখনই আমরা জোর দাবি জানিয়ে আসছি, তখনই এ রকম একটা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই জায়গা থেকে একটি প্রশ্ন থেকেই যায় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা কতটুকু নিরাপদ। অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে। সেই সঙ্গে ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করতে না পারলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমাদের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পথযোদ্ধা মাসউদ স্যারের বাড়ির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। যতক্ষণ এ ঘটনার তদন্ত চলমান, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কোনো পক্ষকেই দোষারোপ করব না। আমরা দেখতে চাই বিপ্লবের ৯ মাস পরে এসেও প্রশাসন ঠিক কতটা সচল হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের যদি কোনো ধরনের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়?’
মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা। এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ ফাহির আমিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া মো. মেশকাত চৌধুরী, রাবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহায়ের ইসলাম, মো. আতাউল্লাহ প্রমুখ।