বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এ এইচ এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘টানা ১৪ দিন ধরে উপাচার্যের শাস্তি ও অপসারণের দাবিতে শিক্ষকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের আবেদন, দুর্নীতিবাজ উপাচার্যকে অপসারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা করেন। গতকাল মঙ্গলবার এসব বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট সভার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উপাচার্য অসুস্থতার অজুহাতে সিন্ডিকেট সভা করেননি। পরে গতকাল উপাচার্য ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে যান। এরপর তিনি আর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেননি। দ্রুত সময়ে মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঠিক তদন্ত করা হোক এবং তাঁকে অপসারণ করুন।’

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকেরা। এতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো পদোন্নতিতে অনিয়ম, অর্থের অপচয়, বিধিবহির্ভূতভাবে রাজশাহীতে নিজ বাসায় পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি বরাদ্দ করা, প্রাধিকারভুক্ত না হয়েও অনেক কর্মকর্তাকে মাসিক লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া। বেশির ভাগ সময় তিনি ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকেন। অধিকাংশ জাতীয় দিবসগুলোতেও তিনি ক্যাম্পাসে থাকেন না। ক্যাম্পাসে উৎপাদিত ধান, মাছ ও সবজি উপাচার্য নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের উন্নয়নের নামে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৩০ জনকে ৪২০ টাকা করে প্যাকেট বিরিয়ানি খাওয়ানোসহ বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে।

উপাচার্য সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ এসব অভিযোগ শুরু থেকে অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বলেন, একটি মহল তাঁকেসহ তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। চার বছর ধরে দায়িত্বে আছেন। কখনো একটি দিনের জন্যও শিক্ষকেরা এসব অভিযোগ তোলেননি। হঠাৎ করেই তাঁর শেষ সময়ে এসব অভিযোগ করছেন।