কক্সবাজারে ভোটকেন্দ্রে উৎসব
কক্সবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নারী–পুরুষের ভিড় ছিল। সকাল সাতটার দিকে কলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল, সারিবদ্ধ দুটি লাইনে দাঁড়িয়েছেন অন্তত ৫০০ নারী ভোটার। অপর দুটি লাইনে দেড় শতাধিক পুরুষ। সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। অথচ ঘণ্টাখানেক আগে থেকেই কেন্দ্রের সামনে লাইন। ভোট গ্রহণ শুরু হতেই আনসার ও পুলিশ সদস্যদের ভোটারদের লাইন ঠিক করতে বেগ পেতে হচ্ছিল।
কলাতলী এলাকাটি কক্সবাজার–৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের সদর উপজেলায় পড়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৩। এর মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলার ভোটারসংখ্যা ২ লাখ ৪০ হাজার ৬৪৭। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৮ হাজার ১৪০ জন ও নারী ১ লাখ ১২ হাজার ৫০৭ জন। ভোটকেন্দ্র ৮২টি।
কলাতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কথা হয় দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম বড়ছড়া থেকে আসা তরুণ মো. নয়নের সঙ্গে। তাঁর সামনে ১৩ জন, পেছনে ৪৫ জন লাইনে দাঁড়ানো। মো. নয়ন (১৮) প্রথম আলোকে বলেন, ‘জীবনের প্রথম ভোট দিতে এলাম। এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারলে কষ্ট দূর হবে।’
নারীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন কলেজের ছাত্রী আশরাফা সিদ্দিকী। বাড়ি ঝিরঝিরি পাড়ায়। তাঁর সামনে ৫০ জন, আর পেছনে অন্তত ৪০০ নারী ভোটার দাঁড়িয়ে। আশরাফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই প্রথম ভোট দিতে এলাম। সকাল সাড়ে সাতটায় লাইনে দাঁড়িয়েছি, এক ঘণ্টায়ও ভোট দিতে পারলাম না। তবে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে আনন্দ লাগছে, নতুন অনুভূতি জাগছে।’
সকাল আটটায় ভোট দিতে পেরে মহাখুশি কলাতলী গ্রামের গৃহবধূ খালেদা আক্তার ( ৪৫) প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছি। পছন্দের প্রার্থী জিতলে মনে শান্তি পাব।’
এই কেন্দ্র পর্যবেক্ষণে আসেন বেসরকারি একটি সংস্থার কর্মকর্তা সিরাজ উল্লাহ হেলালী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কেন্দ্রের পরিবেশ ভালো, উৎসবমুখর। সকাল ছয়টা থেকে বিপুল নারী–পুরুষের উপস্থিতি দেখে তিনি অবাক হন, যা গত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনে দেখা যায়নি।
নারী–পুরুষের পৃথক ৯টি বুথ নিয়ে এই কেন্দ্রের মোট ভোটারসংখ্যা ৪ হাজার ২৯। এর মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ১৮৩ জন ও নারী ১ হাজার ৮৪৬ জন। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর উপজেলা পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. ছালামত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রথম দুই ঘণ্টায় ৩০ শতাংশ ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। নারী ভোটারের উপস্থিতি অনেক বেশি। দুপুরের পর ভোটারের উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে।
কেন্দ্রের বাইরে কথা হয় দরিয়ানগর বড়ছড়া সমাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আমির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, তাঁর গ্রামে ৭৮০ ভোটার রয়েছেন। গ্রাম থেকে কেন্দ্রের দূরত্ব চার কিলোমিটার হলেও সকাল ছয়টা থেকে নারী ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। পুরুষ ভোটাররা আসতে থাকেন আটটার দিকে। গতবার যাঁরা নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরা এবার ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিচ্ছেন।
কিছুটা দূরে কলাতলী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র। বহুতল ভবনের সরু রাস্তা মাড়িয়ে যেতে হয় কেন্দ্রে। সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল, সরু রাস্তায় দুই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন এক হাজারের বেশি নারী ও পুরুষ ভোটার। কেন্দ্রের মাঠেও কয়েক শ ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় আছেন, বেশির ভাগ নারী। এই কেন্দ্রে পাঁচটি বুথে ভোটারসংখ্যা ২ হাজার ৩৫৪। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ১৭৬ জন ও নারী ১ হাজার ১৭৮ জন।
সকাল ১০টায় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর মুহাম্মদ মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম আড়াই ঘণ্টায় ৬৩৩ জনের ভোট গ্রহণ হয়েছে। বাইরে ভোটারের চাপ অনেক।