রংপুরে সংবাদ সম্মেলন
‘মব সন্ত্রাসের’ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ, অভিযোগ ভুক্তভোগী ৮ পরিবারের
রংপুরের পীরগাছায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজনকে কেন্দ্র করে হিজবুত তওহিদের আট নেতা-কর্মীর বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন হিজবুত তওহিদের রংপুর বিভাগীয় আমির আবদুল কুদ্দুস (শামীম)। এ সময় ভুক্তভোগী আবুল কালাম ও হাসানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, হামলা-লুটপাটের ঘটনায় পীরগাছা থানায় একটি ও রংপুর আদালতে পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ও ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে তাঁদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। সম্প্রতি আদালত একটি মামলায় ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে আসামিরা উল্টো তাঁদের হুমকি দিচ্ছেন।
লিখিত বক্তব্যে আবদুল কুদ্দুস অভিযোগ করেন, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় আমির হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পীরগাছার পারুল ইউনিয়নের ছিদামহাট এলাকায় তাঁর বাড়িতে একটি প্রীতিভোজের আয়োজনের প্রস্তুতি নেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, থানা ও পুলিশ সুপারকে জানানো হয়। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর কতিপয় নেতা ও ধর্মান্ধ উগ্রবাদী গোষ্ঠী বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিয়ে পরিকল্পিত ‘মব’ সন্ত্রাস করা হয়।
আবদুল কুদ্দুসের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে আটটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে এবং আগত অতিথিদের ২৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা এসব বাড়িতে ও খামারে থাকা ১২টি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু লুট করে নিয়ে যায়। বাড়িঘর ধ্বংস, মালামাল লুট, চিকিৎসা খরচ, আইনি লড়াই ও বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এখনো দুজন স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। এক বছর পার হলেও কয়েকটি পরিবার উদ্বাস্তু অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করেছে। এসব পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা এখনো কাটেনি।
আবদুল কুদ্দুসের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় তাঁদের করা মামলার প্রধান আসামি নুর আলম ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। জামায়াতের সঙ্গে তাঁদের আদর্শিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু নুর আলম যে এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, এ নিয়ে জামায়াত তাঁকে বহিষ্কার বা সাংগঠনিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম খন্দকার মুহিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি গত ডিসেম্বরে থানায় যোগ দেন। মামলাটির অগ্রগতি বিষয়ে তাঁর জানা নেই।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নতুন সরকারের কাছে এ ঘটনার দ্রুত বিচার ও গ্রেপ্তার, ক্ষতিপূরণ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেছেন। একই সঙ্গে যাঁরা এখনো চিকিৎসাধীন, তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার দাবি জানান।