নির্বাচনীতে ৭ বিষয়ে ফেল
এসএসসি পরীক্ষায় সুযোগ না পেয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিল বিএনপি নেতার ছেলে
এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় সাত বিষয়ে ফেল করেছে ছেলেটি। এরপরও চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে শিক্ষকদের ওপর চাপ ছিল। কিন্তু শিক্ষকেরা সেই সুযোগ না দেওয়ায় ফেল করা আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতার এক ছেলে।
আজ মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের দেলোয়ারগঞ্জ গ্রামে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইফতেখার হোসেন আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ইফতেখার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষার্থী ইফতেখার হোসেন এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় সাত বিষয়ে ফেল করেছে। এরপর সে ও একইভাবে ফেল করা আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু প্রধান শিক্ষক রাজি হননি। বারবার চেষ্টা করার পরও শিক্ষকেরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করায় ইফতেখার আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে স্কুলে যায়। তারা আবার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার জন্য দাবি জানায়। একপর্যায়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ায়। পরে প্রধান শিক্ষকের কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাসিনা মমতাজ জানান, ইফতেখারসহ অন্য শিক্ষার্থীরা তর্ক করার সময় একপর্যায়ে তিনি ও অন্য শিক্ষকেরা তাঁর কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। পরে ওই কক্ষের দরজায় একটি তালা দিয়ে দেয় তারা। তিনি বলেন, ‘এভাবে কাউকে সুযোগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের নেই। কিন্তু তারা আমাদের চাপ দিচ্ছিল। এ জন্য তারা স্কুলে এসে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছে। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।’
শিক্ষার্থী ইফতেখারের বাবা আবদুল আজিজ বেলা দুইটার দিকে মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি ঘটনা শুনে স্কুলে আসছি। পরে কথা বলব।’ আবদুল আজিজের দলীয় পরিচয়ের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রোয়াব আলী।