মামলায় পুলিশ উল্লেখ করেছে, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অবিস্ফোরিত দুটি ককটেল, কাঠের লাঠি, ইটের ভাঙা টুকরা ও বিস্ফোরিত ককটেলের উপাদান জব্দ করেছে।

ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা লোকজনের দাবি, ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনলেও তাঁরা সেখানে উপস্থিত কাউকে দেখতে পাননি।

পুলিশের ভাষ্য, ধুনট-শেরপুর পাকা সড়কের পাশে উল্লাপাড়া গ্রাম এলাকায় শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির ধান-চালের চাতাল আছে। সেই চাতালের পাশে বিএনপির নেতা–কর্মীরা নাশকতা সৃষ্টির জন্য গতকাল বুধবার রাতে জড়ো হন। শেষ রাতের দিকে তাঁরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি করতে ছিল। খবর পেয়ে থানা–পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় বিএনপির নেতা–কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ রেজাউল করিম ও উজ্জ্বল হোসেনকে আটক করে।

ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন খান বাদী হয়ে ধুনট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তৌহিদুল আলমসহ ৪৬ জনের নামে বিস্ফোরক দ্রব্য ও নাশকতার আইনে মামলা করেন। মামলায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাঈদুল ইসলাম ও সদস্য রাজিবুজ্জামানকে সাক্ষী করা হয়েছে।

চাতালমালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, চাতালে এখন ধান–চাল নেই। তাই চাতালে কেউ থাকেন না। আজ সকালে চাতালে যাওয়ার সময় সিদ্দিক হোসেন নামের একজনের কাছে তিনি জানতে পারেন, রাতে তাঁর চাতালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। কিন্তু কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা কেউ বলতে পারছে না।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম মামলা দায়ের ও দুজনকে গ্রেপ্তারের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ বলছে, আসামিদের ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। তবে থানা হাজতে আটক বিএনপির দুই নেতার দাবি, পুলিশ তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে।

মামলার প্রধান আসামি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তৌহিদুল আলম বলেন, গতকাল বুধবার রাতে বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল না। পুলিশ তাঁকেসহ তাঁর নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে।