পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে পিচঢালাই। সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। সামান্য বৃষ্টি হলে এসব খানাখন্দে জমে থাকছে পানি। সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে গাড়ি। আবার কখনো ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা। এ অবস্থা পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোদা-মাড়েয়া সড়কের।

স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, ১০ চাকার বালুবোঝাই ট্রাক এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ভারী যানবাহনের চাপে এ সড়ক বর্তমানে বেহাল। 

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বোদা উপজেলা শহর থেকে পূর্ব দিকে মাড়েয়া-বামনহাট ইউনিয়নের করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাট পর্যন্ত সড়কটি চলে গেছে। মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পাশাপাশি বড়শশী, কাজলদিঘি কালিয়াগঞ্জ ও চিলাহাটি ইউনিয়নের লোকজন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। সড়কটি দিয়ে অনবরত চলাচল করছে বালুবোঝাই ১০ চাকার ট্রাক। করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাটসহ বিভিন্ন বালুমহাল থেকে তোলা বালু এ সড়ক দিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে যায়। ট্রাকের পাশাপাশি চলছে অসংখ্য ট্রাক্টর।

সড়কটির মাঝগ্রাম, আঠিয়াগ্রাম, আমিন নগর, ফকিরপাড়া-বটতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, পিচঢালাই উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। কিছু বালুবোঝাই ট্রাক গর্তের মধ্যে বালু ফেলে কোনোমতে পার করে নিচ্ছে নিজেদের গাড়ি। আবার ট্রাক্টর খাদে পড়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ইজিবাইকচালক উমর ফারুক বলেন, মাড়েয়া থেকে বোদা যাওয়ার এটাই মূল সড়ক। এ ছাড়া এ সড়ক দিয়ে আরও দু–তিনটি ইউনিয়নের লোকজন চলাচল করেন। কোনো রোগী নিয়ে এ সড়ক দিয়ে যাওয়া যায় না। অসুস্থ মানুষ আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যান।

ওই সড়কে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 
মো. শামছুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি  

ট্রাক্টরচালক রইসুল ইসলাম (৩০) বলেন, এ রাস্তার বড় বড় গর্তের কারণে তাঁরা চলাচল করতে পারেন না। গাড়ি চালানোর সময় দুটি বিয়ারিং ভেঙে গেছে। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়েছে। ১০ চাকার ট্রাক বন্ধ করা না গেলে এ রাস্তা যতই ঠিক করা হোক, ভালো থাকবে না।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পঞ্চগড় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বোদা থেকে মাড়েয়া আউলিয়ার ঘাট পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে সড়কটির প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশে সংস্কারকাজ করা হয়েছে। সড়কটিতে সর্বোচ্চ ১৫ মেট্রিক টন ওজনের গাড়ি চলাচল করতে পারে। তবে দিনে ১০০টির বেশি ৫০ মেট্রিক টন ওজনের বালুবাহী ট্রাক যাতায়াত করছে এ সড়ক দিয়ে।

আউলিয়ার ঘাট বালুমহালের ইজারাদার আজাদ জুলফিকার মুঠোফোনে বলেন, তাঁরা ১০ চাকার ট্রাকে বালু বিক্রি করেন না। ছয় চাকার ট্রাকে বালু বিক্রি করেন। এলজিইডির সড়ক সংস্কারের কাজ ভালো মানের না হওয়ায় কয়েক দিনের মধ্যে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামছুজ্জামান বলেন, ওই সড়কে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি সংস্কারের পরপরই স্থানীয় কিছু পাথর-বালু ব্যবসায়ী ১০ চাকার ট্রাকে সড়কটিতে পাথর ও বালু পরিবহন করছেন। এসব ট্রাক চলাচল তাঁরা বন্ধ করতে পারেন না। তাঁরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছেন। 

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বহ্নি শিখা আশা মুঠোফোনে বলেন, তিনি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। বোদা-মাড়েয়া সড়কটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।