গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় আরও একটি হত্যা মামলা
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে সদর থানায় পাঁচটি হত্যা মামলাসহ মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়াল ১২টিতে।
আজ শনিবার সংঘর্ষে নিহত রমজান মুন্সীর ভাই জামাল মুন্সী বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩৪ ও ৩০২ ধারা উল্লেখ করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় আসামিদের অজ্ঞাতনামা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৬ জুলাই এনসিপির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে গোপালগঞ্জ শহরে যানজট ছিল। তাই ওই দিন রিকশাচালক রমজান মুন্সী (৩২) ব্যাটারিচালিত রিকশা গ্যারেজে রেখে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে বাসার দিকে রওনা দেন। এ সময় শহরের লঞ্চঘাটের সামনে এসে দাঁড়ান। সেখানে অজ্ঞাতনামা কয়েক হাজার লোক লাঠিসোঁটা, রামদা, টেঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল করতে করতে এনসিপির পৌর পার্কের সমাবেশস্থলের দিকে যেতে থাকেন। এ সময় ওই এলাকায় কর্তব্যরত যৌথ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং যৌথ বাহিনীর সদস্যদের ওপর আক্রমণ করা হয়। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে হামলাকারীদের ধাওয়া দেন।
মামলা থেকে জানা যায়, হামলাকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে ধাওয়া খেয়ে রমজান লঞ্চঘাটের ফলপট্টি অবস্থান নেন। এ সময় হামলাকারীদের মধ্যে ওত পেতে থাকা অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা যৌথ বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। যৌথ বাহিনীর সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়েন। এ সময় অটোরিকশাচালক রমজান নিরাপদে চৌরঙ্গী সিনেমা হলের গলির মধ্যে অবস্থান করেন। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে সিনেমা হলের সামনে দাঁড়ানো আবস্থায় রমজানের বুকের ডান পাঁজরের ওপর গুলি লাগে। সেখানেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ওই দিন রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রমজান মুন্সী ১৭ জুলাই দিবাগত রাত পৌনে দুইটার সময় মারা যান। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রমজানের মরদেহ গোপালগঞ্জে আনা হয়। রাতে জানাজা শেষে শহরের গেটপাড়া পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়ানোর অভিযোগে সদর, কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া থানায় মোট ১২টি মামলা করা হলো। এর মধ্যে হত্যা মামলা পাঁচটি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা একটি এবং সন্ত্রাস দমন আইনে ছয়টি। এসব মামলায় মোট ১০ হাজার ১৮৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। ১২টি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৯ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাগুলোতে ১৬ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১৬ জুলাই এনসিপির কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হন, আহত হন অর্ধশতাধিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেদিন প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা প্রশাসক। রাতেই জারি করা হয় কারফিউ। পরে কারফিউর মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়।