সকালে শহরের মল্লিকপুর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, সব বাস সারি করে রাখা। টিকিট কাউন্টারগুলো বন্ধ। শ্রমিকদের কেউ কেউ চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। অনেক যাত্রী এসেছেন সিলেট যেতে। কিন্তু বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যেতে পারছেন না।

তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন (৫৫) ছেলেকে নিয়ে এসেছেন সিলেট যাওয়ার জন্য। কিন্তু টার্মিনালে এসে দেখেন বাস বন্ধ। এখন কীভাবে সিলেট যাবেন, নাকি আবার বাড়ি ফিরবেন, এ নিয়ে দোটানায় পড়েছেন। ইসমাইল বলেন, ‘ধর্মঘটের খবর জানি না। তাহিরপুর থেকে বাসস্ট্যান্ডে আসতে ৩০০ টাকা খরচ হইছে। এখন আবার বাড়িত গেলে আরও ৩০০ টাকা যাইব। অপেক্ষা করতাছি, যদি সিলেট যাওয়ার কোনো সুযোগ পাই। কিন্তু বাস ছাড়ব কর মনে অর না।’

সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিনের (৪০) রোগী আছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সিলেট যাবেন বলে টার্মিনালে এসেছেন। হেলাল বলেন, ‘কথা নাই বার্তা নাই বাস বন্ধ। আমরা বুঝি ইতা সরকারেই করার। বিএনপি মিটিং করলে অসুবিধা কিতা বুঝি না। মাঝখানও আমরা ভোগান্তিত পড়ি।’

শহর থেকে মল্লিকপুর পর্যন্ত সড়কের পাশে ঢাকাসহ দূরপাল্লার বাস সারি করে রাখা। শুক্রবার সকাল থেকে কোনো বাস ছাড়েনি। দূরপাল্লার পরিবহনের সঙ্গে যুক্তরা মনে করেছিলেন তাঁদের হয়তো ছাড় দেওয়া হবে, কিন্তু সেটা হয়নি। রাতে বাস বন্ধ রাখতে বলা হয়।

সুনামগঞ্জে দূরপাল্লার একটি পরিবহন সংস্থার প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বলা হয়েছে তাঁদের বাস চলাচলে কোনো বাধা নেই। সেই অনুযায়ী তাঁরা যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করেন। রাতে কিছু বাসও ছেড়ে যায়। কিন্তু দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বলা হয়, সুনামগঞ্জ থেকে সব বাস বন্ধ থাকবে। পরে যাত্রীদের কাছে মাফ চেয়ে টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি তো আছেই।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেছেন, নেতা-কর্মীরা সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটে যাচ্ছেন। কেনোভাবেই তাঁদের আটকানো যাবে না। বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নেতা–কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া আছে, বাস না পেলে নৌকা-লঞ্চে যাবেন। প্রয়োজনে হেঁটে সিলেটে যাবে সবাই।

সুনামগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের লামাকাজী এলাকার এম এ খান সেতুর টোল আদায় বন্ধ, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও পরীক্ষামূলক (অন টেস্ট) সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ, সুনামগঞ্জ বাস টার্মিনাল সংস্কার ও আধুনিকায়ন—এই চার দফা দাবিতে তাঁরা আগে থেকেই আন্দোলন করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সমাবেশের সঙ্গে বাস ধর্মঘটের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।