গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওসমানীনগরের তাজপুর এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে দরজা ভেঙে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০), স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৪৫), ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৫), মাইকুল ইসলাম (১৭) ও মেয়ে সামিরা ইসলামকে (২০) দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর রাফিকুল ইসলাম ও মাইকুল ইসলামে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মা-ছেলে ও মেয়েকে। পরে ওই দিনই ছেলে সাদিকুলের জ্ঞান ফিরলেও মা-মেয়ের জ্ঞান ফেরেনি। বুধবার দুপুরের দিকে মায়ের জ্ঞান ফিরেছে তিনি কথাও বলেছেন পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে মেয়ে সামিরা ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে বুধবার দুপুর থেকে ভেন্টিলেশন দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া।

মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘মা-ছেলের অবস্থা ভালো। কিন্তু মেয়ের অবস্থা গত মঙ্গলবারের তুলনায় খারাপ হয়েছে। তাঁকে ভেন্টিলেশন দিতে হচ্ছে। আমরা “আননোন পয়জন” ধরে নিয়ে চিকিৎসা করছি।’ চিকিৎসাধীনদের শরীরে কোনো আঘাত রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি পুলিশের বিষয়, সেটি নিয়ে কথা বলতে চাই না।’

জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী ছেলেমেয়েসহ এক সঙ্গেই থাকতেন। ওসমানীনগরে ওই বাসায় ভাড়ায় ওঠার আগে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসে ঢাকায় অবস্থানকালীন সময়েও একটি আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষেই ছিলেন। তাঁর ছেলেমেয়ে প্রত্যেকেই শারীরিক কিছু না কিছু সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁদের নিয়ে চিন্তিত ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। এ জন্য নিজেদের নাগালের বাইরে রাখতে চাইতেন না ছেলেমেয়েদের। তিনি বলেন, বড় ছেলে সাদিকুল বেশি কিছু দিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছিলেন, মেয়ে সামিরার নাকে সমস্যা ও ছোট ছেলে মাইকুল শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। মূলত মাইকুলের চিকিৎসার জন্য দেশে এসে ঢাকায় কিছু দিন অবস্থান করছিলেন তাঁরা।

পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কোনো অস্থিরতার কারণে বাইরে থেকে কোনোভাবে স্প্রে করা হয়েছে কি না, সাফোকেশন কি না, বিষয়গুলো সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সোমবার রাতে খাবার খেয়েছিলেন শুধু মা ও মেয়ে। বাকিরা খাওয়া-দাওয়া করেননি। বিষক্রিয়া হলে সবারই এক সঙ্গে কীভাবে হয়েছে সেটিও রহস্যের বিষয়। ছোট একটি কক্ষে স্ট্যান্ড ফ্যান, লাগেজ নিয়ে দুটি বিছানায় থাকা অনেকটা কঠিন অবস্থা ছিল। ওই কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবস্থাও ছিল না। এ ছাড়া ওই কক্ষটি অনেকটা ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ছিল। বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে বুধবার সকালে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন প্রবাসীর চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। পরে দুপুরে তিনি ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুরে ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেন।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনার বিভিন্ন বিষয় সামনে নিয়ে তদন্ত করছি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এ ছাড়া নিকটাত্মীয়দের পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। এ ছাড়া আটক কিংবা কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।’ তিনি বলেন, নিহতদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন