এই ছবিটির চিত্রকর সুমন সরকার। ২০১১ সালের কোনো একদিন তিনি ওই গ্রামের একটি মাটির বাড়ির পাশে বসে পড়েন। তাঁর তুলিতে দোতলা মাটির ঘরের সঙ্গে উঠে আসে তালবাড়িয়া গ্রামের ঘরদোর, গাছগাছালি, গৃহস্থালির আসবাব, মানুষ সবকিছুই। সেটিই এই বিশেষ খামের মাধ্যমে ধরে রাখা হলো।

খামটির নকশা করেছেন রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজাইনার সুমন্ত কুমার। আজ অনুষ্ঠানস্থলে পাওয়া যায় তাঁকে। তালবাড়িয়া গ্রামের ছবি দিয়ে খামের নকশা করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তালবাড়িয়া গ্রামে তাঁর নানাবাড়ি। এ গ্রামটিকে ঘিরে তাঁর শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এ গ্রামের ছবিটি দিয়ে খামের ডিজাইন করে আসলে তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলের একটি গ্রামকে ধরে রাখতে চেয়েছেন।

আজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার। সভাপতিত্ব করেন দেশের বিশিষ্ট ডাকটিকিট গবেষক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান। উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার কথা বলার শুরুতেই তাঁর শৈশবের ডাকটিকিট সংগ্রহের স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রকাশিত প্রথম আটটি ডাকটিকিট মূলত বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি। বর্তমান প্রজন্ম যে এখনো ডাকটিকিট সংগ্রহ করছে, এটা তাঁকে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে। প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন করার জন্য আয়োজকদের আহ্বান জানান।

default-image

অনুষ্ঠানের সভাপতি মোখলেসুর রহমান বলেন, আজকে প্রকাশিত বিশেষ খামটি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ১৪৯তম খাম। তিনি বলেন, যুবসমাজ মাদকের নেশায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা যদি ডাক টিকিট সংগ্রহের মতো ইতিবাচক নেশার সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে একটি সুস্থ সমাজ গঠনে তা ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি এটাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার জন্য আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রদর্শনী উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থলে ভ্রাম্যমাণ ডাকঘর বসানো হয়েছে। সকাল থেকে সেই ডাকঘরে ডাকটিকিট বিক্রির ধুম পড়ে যায়। সিলমোহরের খটখট শব্দে মুখরিত হয় চারপাশ। ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটান পোস্টাল অপারেটর শাকিলুর রহমান ও জিয়া নিছার আহমেদ। শাকিলুর বলেন, সারা দিনে তাঁরা প্রায় ৭ হাজার টাকার ডাকটিকিট বিক্রি করেছেন।

বিকেলে অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কিছু দর্শনার্থী ঘুরে ঘুরে ডাকটিকিট দেখছেন। আর কেউ কেউ তখনো টিকিট কেনার জন্য দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ঢাকার ডাকটিকিট সংগ্রাহক আহসান আল আমিন তালবাড়িয়া গ্রামের ছবি–সংবলিত ১৩টি বিশেষ খাম কিনেছেন। তিনি অনুষ্ঠানস্থলে বসেই খামের ওপরে বিশেষ সিলমোহরটি মেরে নেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, তিনি সপরিবার এই অনুষ্ঠানে এসেছেন। ঢাকায় যখন খামটির ডেমো দেখেন, তখনই মুগ্ধ হন। তিনি বলে রেখেছিলেন, যদি এক হাজার খাম প্রকাশ করেন আয়োজকেরা, তাহলে তাঁকে অন্তত ২০০টি খাম যেন দেন। তাঁরা তা দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘তবে যা পেয়েছি তাতেই খুশি হয়েছি।’

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক বলাই সরকার বলেন, তাঁর বাবা-মা এখনো তালবাড়িয়া গ্রামে থাকেন। প্রতি সপ্তাহে তাঁকে যেতে হয়। গত সপ্তাহেও তিনি গিয়েছিলেন। এখনো তাঁর গ্রাম একটি নিভৃত এলাকা। তিনি বলেন, ‘গ্রামের ছবি ডাক বিভাগের খামে উঠেছে, এর চেয়ে আনন্দের খবর আর কী হতে পারে। খুবই ভালো লাগছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন