নেত্রকোনা–৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

জামায়াত প্রার্থী মাসুম মোস্তফা
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনা–৫ (পূর্বধলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি মাসুম মোস্তফার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্রে মামলার তথ্য গোপন করায় যাচাই–বাছাই শেষে গতকাল শনিবার ওই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়। আজ রোববার বিকেলে মনোনয়নপত্রটি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

মাসুম মোস্তফার বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা চলমান। এর মধ্যে হলফনামায় একটি মামলার তথ্য গোপন করে খালাস দেখানোয় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি সূত্র। তবে প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে আপিল করতে পারবেন ওই প্রার্থী।

এ বিষয়ে জানতে মাসুম মোস্তফার মুঠোফোনে কল করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বলেন, মনোনয়নপত্রে উল্লিখিত তথ্যে গরমিল থাকায় জেলার পাঁচটি আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে প্রার্থীদের আপিলের সুযোগ রয়েছে।

যাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, তাঁরা হলেন নেত্রকোনা–১ (কলমাকান্দা–দুর্গাপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. লুৎফর রহমান (ডিপ্টি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী মো. বেলাল হোসেন, নেত্রকোনা–২ (সদর–বারহাট্টা) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুর রহিম, নেত্রকোনা–৪ (মোহনগঞ্জ–মদন–খালিয়াজুরি) আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত প্রার্থী চম্পা রানী সরকার ও নেত্রকোনা–৫ (পূর্বধলা) আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান আজাদ ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুম মোস্তফা।

যাচাই–বাছাইয়ে কারও মামলার তথ্য গোপন রাখা, প্রস্তাবকারী অন্য আসনের থাকা, অসম্পূর্ণ তথ্য ও ভোটারদের ১ শতাংশের স্বাক্ষর সংগ্রহ না করায় ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, সিপিবি, স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৩০ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করা যাবে। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে এসব আপিল নিষ্পত্তি হবে। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। এরপর ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।