যানজট কমাতে দেড় ঘণ্টা যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে উত্তরবঙ্গগামী লেন একমুখী
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে উত্তরবঙ্গগামী লেন একমুখী করা হয়। সেতুতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও সেতুর ওপর ১৫টি গাড়ি বিকল হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার ভোরে সেতুর পূর্ব প্রান্তে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অন্তত ২৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত সেতু একমুখী (ওয়ানওয়ে) করে দুই লেন দিয়ে যানবাহন উত্তরবঙ্গের দিকে পার করানো হয়। এতে যানজট অনেকটা কমে আসে।
বেলা দেড়টার দিকে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু সংযোগ সড়কের পশ্চিম টোল প্লাজার ঢাকামুখী লেনে প্রায় দেড় কিলোমিটার যানবাহনের সারি ছিল। তবে জানা গেছে, সেতুর পূর্ব প্রান্তে উত্তরবঙ্গগামী লেনে যানজট থাকলেও ঢাকাগামী লেন একদমই ফাঁকা ছিল।
বুধবার রাতে টাঙ্গাইলে যানজটে আটকা পড়ে ঘরমুখী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ গোলচত্বর এলাকায় বগুড়াগামী একতা পরিবহনের যাত্রী সোহরাব আলীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, বুধবার রাত নয়টার দিকে তিনি ঢাকার আমিনবাজার থেকে রওনা দেন। পথে বিভিন্ন স্থানে যানজটে পড়তে হয়েছে। যে কারণে সেতুর পূর্ব প্রান্তে পৌঁছাতেই বৃহস্পতিবার ভোর হয়ে গেছে। সাধারণ সময়ে এই পথ পার হতে তিন ঘণ্টা সময় লাগে।
তীব্র যানজট উপেক্ষা করে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জে এসেছেন জেলার বেলকুচি উপজেলার তামাই গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আল আমিন মল্লিক। তিনি বলেন, ঢাকার গাবতলী থেকে বুধবার বিকেলে ইফতার কিনে বাসে উঠেছিলেন। সাভার এসে জানতে পারেন, চন্দ্রা গোলচত্বর এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যে কারণে গাড়ি মানিকগঞ্জ হয়ে টাঙ্গাইল শহরে ঢোকার চেষ্টা করে। সেখানেও তীব্র যানজটে সারা রাত আটকে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় যমুনা সেতু হয়ে সিরাজগঞ্জের কড্ডায় পৌঁছান। তিনি বলেন, যানজটে যাত্রীদের কষ্ট হয়েছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে উভয় পাড়ে মোট ৫১ হাজার ৫৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ১১ হাজার ৯০০ টাকা। যার মধ্যে পূর্ব প্রান্ত দিয়ে পার হয়েছে ৩২ হাজার ৮৪০টি ও পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ১৮ হাজার ৭৪৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। বুধবার রাত ১২টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত যমুনা সেতুর ওপর ১৫টি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে ছিল। এতে সেতুর পূর্ব প্রান্তে উত্তরবঙ্গগামী লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট কমাতে সেতুটি একমুখী করে দুই লেন দিয়ে যানবাহন উত্তরবঙ্গের দিকে পার করানো হয়। ফলে যানবাহন দ্রুত সেতু পার হয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।