‘একন বুঝিছি না, ছেলের জন্যি কানমো নাকি ওর মাওক সামলামো’

হাসিবুর রহমানছবি: সংগৃহীত

জীবনের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে বিদেশে গিয়েছিলেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান (২৩)। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ‎গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। আজ রোববার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

‎হাসিবুর রহমান জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার জেওনবুক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শনিবার কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ইলেকট্রিক স্কুটার চালিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন হাসিবুর। পরে সেখানকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের কারণে আজ সকাল আটটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবার জানায়, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ায় যান হাসিবুর। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর। বিদেশে যাওয়ার মাত্র চার মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। নতুন সংসার, উচ্চশিক্ষা ও পরিবারকে সচ্ছল করার স্বপ্ন—সবকিছু মিলিয়ে তাঁর সামনে ছিল এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ‎প্রবাসে কাজ শেষে ঘরে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা হাসিবুরের এক বাংলাদেশি বন্ধু তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান। সেখানে থাকা হাসিবুরের বন্ধুরা তাঁর পরিবারকে জানিয়েছেন, তাঁর লাশ দ্রুত দেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন।

হাসিবুরের সহপাঠী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমার বন্ধু হাসিবুরের বড় স্বপ্ন ছিল। সে পড়াশোনা করত, কাজও করত। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি পরিবারের জন্য কিছু করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তার। তা আর হলো না।’

হাসিবুরের বাবা নিজাবুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেডারে লিয়ে কত স্বপ্ন ছিল, কিন্তু আইজ সব শেষ হইয়া গেল রে! একন বুঝিছি না, ছেলের জন্যি কানমো নাকি ওর মাওক সামলামো।’