বিদ্যালয়ের শৌচাগারে কৌটা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে অসুস্থ ৪০ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি উচ্চবিদ্যালয়ের ৪০ শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থ সবাই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আজ বুধবার দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগিতায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যালয়–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, শিক্ষার্থীরা বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে বলে জানিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়েছিল। অনেকে আবার আতঙ্কিত ছিল।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে বিদ্যালয়ের শৌচাগারে একটি কৌটা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে দুর্গন্ধের তীব্রতা বাড়ে। এতে প্রথমে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। এরপর ধীরে ধীরে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাসনা রানী জানান, হঠাৎই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে থাকে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডল। তিনিও অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের পরামর্শ দেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউএনও হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানান, খবর পেয়ে দ্রুত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিকেল নাগাদ অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীরা আশঙ্কামুক্ত। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়ে একটি কৌটা পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কৌটাটিতে বিষাক্ত কিছু ছিল। বিষক্রিয়ার শিশুরা অসুস্থ হয়েছে। ঘটনায় আগামীকাল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি প্রতিবেদন দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কাবেরী সাহা বলেন, হঠাৎ করেই হাসপাতালে শিক্ষার্থীরা আসতে থাকে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়েছিল। অনেকে আবার আতঙ্কিত ছিল। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে তারা জ্ঞান হারাল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।