উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও প্রতিদ্বন্দ্বী ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৫ জুন এওচিয়া ইউপি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ওই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নজরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান ও সাতকানিয়া উপজেলা এলডিপির সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন মোহাম্মদ আবু ছালেহ।

ওই সময় এওচিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও এলডিপি নেতা মাহমুদুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে চেক প্রতারণা মামলায় সাজা ও অর্থদণ্ডের আদেশ থাকায় নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে। বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ আবু ছালেহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছিলেন। ওই পরিস্থিতিতে ২ জুন বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তাঁকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন জোরপূর্বক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করেছেন বলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেন।

নজরুল ইসলামের ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ৫ জুন এওচিয়া ইউপি নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে। পরে নির্বাচন কমিশনের ৩ জুলাইয়ের একটি চিঠিতে কাল বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) চেয়ারম্যান বাদে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। এদিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় নজরুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচন কমিশন আবারও এওচিয়া ইউপি নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও এওচিয়া ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবু তালেব মন্ডল এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবু তালেব মন্ডল প্রথম আলোকে বলেন, এর আগেও বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তা ছাড়া নজরুল ইসলামের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ পেয়ে নির্বাচন কমিশন কাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় এওচিয়া ইউপি নির্বাচন আবারও স্থগিত ঘোষণা করেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন