পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিম দিকে লেম্বুরবন এলাকায় পরিবারসহ ঘুরতে যান মিজানুর রহমান। তাঁর ডান পাশের পকেটে মুঠোফোন ও টাকা ছিল। মুঠোফোন বের করতে গিয়ে পকেট থেকে টাকা পড়ে যায়। একপর্যায়ে দেখেন পকেটে টাকা নেই। পরে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করে টাকা না পেয়ে মিজান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা হোটেলে চলে যান।

টাকাগুলো ফেরত না দিলেও কিছু করার ছিল না। কিন্তু হাবিবুর টাকা ফেরত দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
হাসনাইন পারভেজ, কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক

এদিকে লেম্বুরবন এলাকায় ছবি তুলতে যাওয়া বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফার হাবিবুর টাকাগুলো কুড়িয়ে পান। তিনি কুয়াকাটা সৈকত এলাকার ফটোগ্রাফার মালিক সমিতির সভাপতির কাছে সেগুলো জমা দেন। সমিতির সভাপতি আল আমিন কাজী গতকাল বিকেলে পর্যটন পুলিশের মাধ্যমে ওই পর্যটককে খুঁজে বের করে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাগুলো ফেরত দেন।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজির পর টাকা না পেয়ে ভেবেছিলাম টাকাগুলো আর হয়তো পাওয়া যাবে না। পর্যটন পুলিশের কাছে খবর পাই, আমার হারানো টাকা পাওয়া গেছে। জানতে পারি সৈকত এলাকার হাবিব নামের একজন ফটোগ্রাফার আমার টাকাগুলো কুড়িয়ে পায়। হাবিবুরের সততায় আমি মুগ্ধ হয়েছি।’

টাকার মালিককে টাকা ফেরত দিতে পেরে আনন্দিত হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি ছবি তুলতে গিয়ে একটি টিস্যুতে মোড়ানো অবস্থায় টাকাগুলো পাই। এরপর আমি টাকাগুলো আমাদের সমিতির সভাপতির মাধ্যমে পর্যটন পুলিশকে দিই। পরে টাকার আসল মালিককে ডেকে এনে তাঁর হাতে টাকা ফেরত দিই। এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব ছিল।’

কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, হাবিবুর ব্যক্তিগত জীবনে সৎ। ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন। টাকাগুলো ফেরত না দিলেও কিছু করার ছিল না। কিন্তু হাবিবুর টাকা ফেরত দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।