ত্বকী হত্যার ১৫৪ মাস
শেখ হাসিনা বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করে গেছেন, এখনো পরিবর্তন আসেনি: রফিউর রাব্বি
শেখ হাসিনা দেশের বিচারব্যবস্থাকে যেভাবে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন, সরকার পরিবর্তনের পরও তার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা শামীম ওসমানকে রক্ষা করার জন্য সাড়ে ১১ বছর বিচারকাজ বন্ধ করে রেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়েও সেই ব্যবস্থায় তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ত্বকী হত্যা মামলার ১০০ কার্যদিবস অতিবাহিত হলেও এখনো তদন্তকারী সংস্থা র্যাব আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেনি।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ত্বকী হত্যার ১৫৪ মাস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
রফিউর রাব্বি বলেন, ‘চব্বিশে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান হলেও বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় বৈষম্য, লৈঙ্গিক বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিন্নমতকে দমনে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এটি আমাদের শত শত বছরের অর্জনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছিল, তা ধূলিসাৎ হতে চলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর হলেও সাগর-রুনি, তনু, ত্বকী হত্যার বিচারে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।’
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা জিয়াউল ইসলাম, সিপিবির জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদের জেলার সদস্যসচিব আবু নাইম খান, গণসংহতি আন্দোলনের জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা ও আবৃত্তিশিল্পী ফাহমিদা আজাদ।
হালিম আজাদ বলেন, দেশে সব ধর্মের, সব মত ও পথের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এখনো বাধা রয়েছে। দেশে যেভাবে দুর্বৃত্ত, মাফিয়া, গডফাদারদের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল, তাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। সমাবেশে বক্তারা ত্বকী হত্যার নির্দেশদাতা শামীম ওসমানসহ ঘাতকদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার শুরু করার দাবি জানান।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সেই অভিযোগপত্র আজও পেশ করা হয়নি। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ মোমশিখা প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।