নিহত সাহারুল ইসলামের স্ত্রী রিনা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘ এক যুগের বিরোধে ধলা গ্রামে আমাদের গোত্রের চারজন নিহত হয়েছেন আতিয়ার বাহিনীর হাতে। স্থানীয় একটি বিল নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি। এরপর ওই বিল দখলকে কেন্দ্র করে ২০০০ সালে সাইদুল হোসেন খুন হন। পরে ২০১৭ সালে এনামুল হোসেনকে প্রতিপক্ষ আতিয়ার রহমানের সমর্থকেরা বাঁশবাগানে চোখ উপড়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যান। ওই হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতিয়ার রহমান। মামলাটি এখনো চলছে।’

উপজেলা কৃষক লীগের দুজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, হত্যা মামলার আসামিকে সম্মেলন করে কৃষক লীগের উপজেলা সভাপতি নির্বাচিত করায় নেতা–কর্মীদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। আতিয়ার রহমানের নামে গাংনী থানায় একাধিক হত্যা মামলা আছে। তিনি কয়েক দফা কারাগারে ছিলেন। একসময় রাত–বাহিনীর (রাতের বেলা দুর্বৃত্তপনা) সদস্য ছিলেন। এমন একজন মানুষকে সভাপতি হিসেবে মানা যায় না। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তাঁর বিপক্ষে যে-ই কথা বলবেন, সে-ই বিপদে পড়বেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার আতিয়ার রহমানকে কল করলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন উদ্বোধন করেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও মেহেরপুর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি মাহাবুব উল আলম। গাংনী উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সম্মেলনে বক্তব্য দেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ আশরাফ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ খালেক। দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে। এ সময় কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়।

মেহেরপুর জেলা ‍কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা কৃষক লীগের সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচন হয়েছে। সেখানে কাউন্সিলরা আতিয়ার রহমানকে নির্বাচিত করেছেন। এখানে কারও কোনো হাত নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন