মোটরসাইকেলের গতি কমাতেই পেছন থেকে বাসের ধাক্কা, প্রাণ গেল তিনজনের
ঢাকার ধামরাই উপজেলায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় দুটি মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলে এবং অপরজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত তিনজন হলেন সাভারের আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকার জগন্নাথ সাহার ছেলে আবাস সাহা (২৫), মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আশুতোষ সাহার ছেলে সুজয় সাহা (১৮) এবং সাভারের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার নকিবুল্লার ছেলে সৈয়দ নাইমুল হক (৩০)।
এর মধ্যে আবাস ও সুজয় একই মোটরসাইকেলে ছিলেন। আবাস মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। সুজয় উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি) পরীক্ষার্থী ছিলেন। সৈয়দ নাইমুল হক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের বরাতে সাভার হাইওয়ে পুলিশ ও ধামরাই থানা-পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকায় আরিচামুখী লেনে একটি বাস নষ্ট হয়ে থামা অবস্থায় ছিল। এর ফলে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার ও পেছনে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যান গতিনিয়ন্ত্রণ করে। কাভার্ড ভ্যানের পেছনে থাকা দুটি মোটরসাইকেলের চালকও গতি কমান। তবে এর পেছনে থাকা একটি বাস গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে মোটরসাইকেল দুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বেশ খানিকটা পথ মোটরসাইকেল দুটিকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়।
আবাস ও সুজয়কে ধামরাই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। আর নাইমুল হককে সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এতে একটি মোটরসাইকেলে থাকা আবাস সাহা ও সুজয় সাহা এবং অপর মোটরসাইকেলে থাকা চালক সৈয়দ নাইমুল হক গুরুতর আহত হন। আবাস ও সুজয়কে ধামরাই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। আর নাইমুল হককে সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ধামরাই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সীমিন সাইয়ারা প্রথম আলোকে বলেন, সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মৃত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের দুজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ছিল।
আর এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনচার্জ মো. ইউসুফ বলেন, সকাল নয়টার দিকে মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় সৈয়দ নাইমুল হককে হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানান সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম।