ছয় মাস পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকার পর যেমন চেহারা দাঁড়িয়েছে সেন্ট মার্টিনের

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সৈকতে এখন কেবলই সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দ। বিচ্ছিন্ন দ্বীপটি গত ছয়মাস ধরে পর্যটকশূন্য। গত শনিবার তোলাছবি: প্রথম আলো

পর্যটকের চেনা কোলাহল নেই। জাহাজঘাটে নেই ভিড়। সৈকতের এক প্রান্ত দিয়ে হাঁটা শুরু করলে কেবল বিস্তৃত নীল জলরাশি আর সাদা ফেনা মাথায় নিয়ে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের দৃশ্য চোখে পড়ে। সারি সারি নারকেলগাছের নুয়ে পড়া পাতার ফাঁক দিয়ে এই দৃশ্য দেখে মনে হলো একখণ্ড স্বর্গ রচিত হয়েছে সাগরের বুকে।

পর্যটকের যাতায়াতের নিষেধাজ্ঞা তো রয়েছেই, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ষাকালীন মৌসুমি বায়ুর প্রভাব, যার কারণে দ্বীপবাসীর বাইরে যাতায়াতও অনেকটা সীমিত। এমন বিচ্ছিন্ন পরিবেশে সেন্ট মার্টিনের প্রকৃতি নতুন প্রাণ পেয়েছে। দ্বীপের সেই পরিবর্তন আর দ্বীপবাসীর হালচাল দেখতেই প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সম্প্রতি দ্বীপটিতে আসা।

এখানে এসেই চোখে পড়ল, গত আড়াই বছরে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ আর পর্যটক সীমিতকরণের ফলে দ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। কেয়া বনে ঝুলে আছে ফল-ফুল, সৈকতে ভিড় করেছে গাঙচিল, বালুচরে লাল কাঁকড়া আর শামুক-ঝিনুকের বিচরণ। সৈকতে কাছিমের ডিম ফোটানোর হ্যাচারিতেও দেখা গেল ব্যস্ততা।

সেন্ট মার্টিনে পর্যটক সীমিত হওয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বেড়েছে কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক, পাখি ও কাছিমের বিচরণ; কমেছে দূষণ। তবে পর্যটননির্ভর অন্তত ৫ হাজার মানুষ বেকার হয়ে সংকটে পড়েছেন। মাছের সংকটও তীব্র। এর সঙ্গে সমুদ্রভাঙন, লবণাক্ততা ও সুপেয় পানির সংকট দ্বীপবাসীর জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

কিন্তু দ্বীপের অন্য চিত্রও রয়েছে। এখানকার পর্যটননির্ভর বাসিন্দাদের বেশির ভাগের জীবনেই নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে। পর্যটন মৌসুমে বাড়তি আয় যেমন বন্ধ হয়েছে, তেমনি বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকেই সাগরে মাছ ধরতে পারছেন না। দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় নেওয়া সরকারের নানা পদক্ষেপে তারা খুশি হলেও বিকল্প আয়ের সংস্থান না হওয়ায় হতাশ।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের লোকসংখ্যা ১০ হাজার ৭০০ জন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি জেলে, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও খেটে খাওয়া মানুষ। দ্বীপের দেড় হাজার পরিবারের অর্ধেকেরই বসবাস ঝুপড়ি ঘরে। ৮ ও ৯ আগস্ট দুদিন দ্বীপের ১২টি গ্রামের ১২০ জন মানুষের সঙ্গে কথা হয়। তাঁদের সবাই পরিবেশ সংরক্ষণের নীতি সমর্থন করলেও নিজেদের দুরবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ।

সাগর থেকে জাল হাতে ফিরছেন এক জেলে। সৈকতে দাঁড়িয়ে জানালেন মাছ পাননি একটাও। গত শনিবার সেন্ট মার্টিন দ্বীপে
প্রথম আলো

জীবনের হিসাব মিলছে না

৮ আগস্ট বিকেলে দ্বীপের পূর্ব সৈকতে মাছ ধরার বড়শি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্থানীয় জেলে আবদুল শুক্কুর। তাঁর বাড়ি দ্বীপের গলাচিপা এলাকায়। ৩২ বছর ধরে তিনি মাছ ধরে সংসার চালাচ্ছেন। সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধের মৌসুমে এবং পর্যটকের নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁর হাতে তেমন কাজ থাকে না। এক সময় দ্বীপে পাঁচ মাস পর্যটক থাকতেন। হোটেল-মোটেলে সারা বছরই ট্রলারে পর্যটক আসতেন। ফলে দোকানদারি করে, ভ্যান চালিয়ে সে সময় বেশ ভারো আয় হতো। এখন সেসব বন্ধ হওয়ায় সংসার চালাতে পারছেন না বলে জানালেন।

তাঁর মতে দশা এখানকার সব জেলেদেরই। তা ছাড়া সাগর এখন প্রায় সময় উত্তাল থাকছে। ফলে গভীর সাগরে নৌকা নিয়েও যেতে পারছেন না। বড় মাছ ধরা পড়লেও বাজারে কেনার মতো লোক নেই। আবহাওয়া খারাপ থাকলে মাছ টেকনাফও পাঠানো যায় না।

গত তিন মাস সাগরে তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান শুক্কুর (৫৪)। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় তিনি অনেক ক্ষোভের কথা বললেন। সেসব সংক্ষেপে অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘সরকার বলেছে দ্বীপ বাঁচাতে হবে। আমরা এই দ্বীপের সন্তান, আমরা চাই না দ্বীপটা ধ্বংস হোক। কিন্তু পেটে তো ভাত নেই। সাগরে জাল ফেললেও মাছ ওঠে না। আট সদস্যের সংসার আর চলছে না। কোনো হিসাবই এখন মিলছে না।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার সেন্ট মার্টিনে পর্যটকের যাতায়াত সীমিত করে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ মাস অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে দৈনিক দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ভ্রমণে যেতে পারবেন। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দুই মাস পর্যটকেরা সেন্ট মার্টিনে রাত যাপন করতে পারবেন, কিন্তু নভেম্বর মাসে রাত যাপনের সুযোগ রাখা হয়নি। দিনে গিয়ে দিনে কক্সবাজার ফিরে আসতে হয়। এ হিসাবে গত দুই মৌসুমে (৬ মাসে) ২ লাখ ৩৭ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেন। তিন বছরে আগে পাঁচ মাস দীর্ঘ মৌসুমে ভ্রমণ করতেন ১০-১৫ লাখ মানুষ।

এখানে এসেই চোখে পড়ল, গত আড়াই বছরে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ আর পর্যটক সীমিতকরণের ফলে দ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। কেয়া বনে ঝুলে আছে ফল-ফুল, সৈকতে ভিড় করেছে গাঙচিল, বালুচরে লাল কাঁকড়া আর শামুক-ঝিনুকের বিচরণ। সৈকতে কাছিমের ডিম ফোটানোর হ্যাচারিতেও দেখা গেল ব্যস্ততা।

পরিবেশসংশ্লিষ্ট সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পর্যটক সীমিতকরণের প্রভাবে দ্বীপের শ্রেণিপেশার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। বছরের অবশিষ্ট ৯ মাস দ্বীপের ২৩০টির বেশি হোটেল রিসোর্ট-কটেজ বন্ধ থাকায় ৩ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। চার শতাধিক ইজিবাইক, তিন শতাধিক মোটরসাইকেল ও আড়াই শতাধিক বাইসাইকেল ভাড়া দিয়ে অন্তত ১ হাজার পরিবারের সংসার চলত, পর্যটক না থাকায় সেসব পরিবারও অভাব অনটনের শিকার। কিন্তু এর বিপরীতে দ্বীপের লোকজনের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থাও নেই।

দ্বীপের ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ (৫০) বলেন, এক সময়ে তাঁর দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকত। কয়েক মাস ধরে তাঁর দোকান বন্ধ। তাতে পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, দ্বীপে পানীয় জলের সংকট নিরসন, বেওয়ারিশ কুকুরের প্রজনন ঠেকাতে বন্ধ্যত্বকরণ প্রকল্প, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন, বনায়ন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ শত কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের কাজ চলছে। আগামী নভেম্বরের আগে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দ্বীপের মানুষের সংকট দূর হবে।

৮ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সফর করেন। এ সময় দ্বীপের অনেকেই তাঁর কাছে দুর্দশার এই চিত্র তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রীর কাছে সেন্ট মার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ফয়েজুল ইসলামও একই কথা অভিযোগ তুলে ধরেন। নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাস পর্যটকের রাত যাপনের সুযোগ দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অন্তত তিন মাস পর্যটকের রাত যাপনের বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ, বিপুল পর্যটকের সমাগম ও যত্রতত্র প্লাস্টিক দূষণের কারণে দ্বীপটি ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। সেন্ট মার্টিনে একসময় প্রবাল, শৈবাল, সামুদ্রিক কাছিম, শামুক, ঝিনুক, বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, পরিযায়ী ও স্থানীয় পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী, কাঁকড়াসহ প্রায় ১ হাজার ৭৬ প্রজাতির সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ছিল। গত দুই দশকে তার অনেক কিছুই বিলুপ্ত হয়েছে। এ কারণেই সেন্ট মার্টিনকে বাঁচাতে সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করে।

দ্বীপে প্রাণের স্ফুরণ

১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) ঘোষণা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ, বিপুল পর্যটকের সমাগম ও যত্রতত্র প্লাস্টিক দূষণের কারণে দ্বীপটি ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। সেন্ট মার্টিনে একসময় প্রবাল, শৈবাল, সামুদ্রিক কাছিম, শামুক, ঝিনুক, বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, পরিযায়ী ও স্থানীয় পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী, কাঁকড়াসহ প্রায় ১ হাজার ৭৬ প্রজাতির সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ছিল। গত দুই দশকে তার অনেক কিছুই বিলুপ্ত হয়েছে। এ কারণেই সেন্ট মার্টিনকে বাঁচাতে সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করে।

সেন্ট মার্টিনে রাতের বেলা সৈকতে আলো জ্বালানোয় নিষেধাজ্ঞা, শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি এবং শামুক-ঝিনুক ও প্রবাল আহরণ বন্ধসহ ১২টি নির্দেশনা বাস্তবায়নের ফলে দ্বীপটির প্রকৃতিতে ইতিবাচক অনেক পরিবর্তন এসেছে। দ্বীপের গাছগুলোয় ফল ধরেছে। নতুন চারা যাচ্ছে। সৈকতে যান্ত্রিক মোটরযানের চলাচল বন্ধ হওয়ায় রাজ কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও শৈবালের বিস্তৃতি বেড়েছে। কেয়াবন ও পাথর স্তূপে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আনাগোনা বেড়েছে, যা আগে পর্যটকদের চাপে প্রায় অদৃশ্য হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় শ্রেণি–পেশার মানুষের অভিমত পর্যটক সীমিতকরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে দ্বীপের পরিবেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

নিরিবিলি সৈকতে খেলায় মেতেছে শিশুরা। গত শনিবার সেন্ট মার্টিন দ্বীপে
প্রথম আলো

দ্বীপের পরিবেশ ফেরাতে যে সংস্থাগুলো কাজ করছে তাদের একটি ‘ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি’। এই সংস্থার নির্বাহী কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, পর্যটক কমায় সেন্ট মার্টিনে মা কাছিমের ডিম পাড়ার পরিবেশ ফিরে এসেছে। প্রথম বছরে ৩ হাজার এবং দ্বিতীয় বছরে ৭ হাজারের বেশি কাছিমের ডিম সংগ্রহ করে হ্যাচারিতে বাচ্চা উৎপাদন করে সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে। আগে কাছিমের ডিম বেওয়ারিশ কুকুর খেয়ে ফেলত। এখন অভুক্ত তিন হাজার কুকুরকে দিনে একবেলা করে খাবার সরবরাহ করছে একটি বেসরকারি সংস্থা। ফলে কাছিমের ডিম সুরক্ষা পাচ্ছে।

‘সেন্ট মার্টিনের দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন প্রকল্প’ নামে ৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলছে দ্বীপটিতে। এ প্রকল্পের পরিচালক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, দ্বীপের ছেঁড়াদিয়া, গোলদিয়া ও দিয়ারমাথায় প্রবাল-শৈবাল বিস্তার ঘটছে। শৈবাল ও চুনাপাথরের গায়ে অজস্র শামুক-ঝিনুক আঁকড়ে আছে। বালিয়াড়িতে প্যারাবন মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। প্যারাবনে ব্যাঙ, সাপ, টিকটিকি, প্রজাপতিসহ বিভিন্ন প্রাণীর বিচরণ বাড়ছে, যা তিন বছর আগে ছিল না।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত দুই বছর কক্সবাজার থেকেই পর্যটকেরা একাধিক জাহাজে চড়ে সেন্ট মার্টিন যাওয়া আসা করেন। পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে টেকনাফের সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে আধুনিক একটি জেটি নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। জেটিটি চালু হলে ভ্রমণ সময় ও দুর্ভোগ কমে আসবে।

তবু প্রকৃতির আঘাত

এত সব পদক্ষেপ নেওয়ার পরও সেন্ট মার্টিনের বিপদ কাটছে না। দ্বীপে পড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব। বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বর্ষার উত্তাল পরিবেশে দ্বীপের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকের বালিয়াড়ি দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সমুদ্রের ভাঙনে শত শত নারকেলগাছ শেকড় আলগা হয়ে উপড়ে পড়ছে।

শুধু তা–ই নয়, দ্বীপের তলদেশের সুপেয় পানির ভান্ডার ক্রমেই কমে যাচ্ছে এবং সেখানে লবণাক্ত পানি জায়গা করে নিচ্ছে। ফলে খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন দ্বীপবাসী। সাগরেও আগের মতো আর মাছ মিলছে না। একদিকে প্রকৃতির রুদ্ররোষ, অন্যদিকে পর্যটন বন্ধ থাকায় জেলে-কৃষকদের জীবন এখন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।