রংপুর নগরকে উন্নত নাগরিক সুবিধা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া রংপুরে উন্নয়নের মূল স্রোতোধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব।

স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, এ নগরের কোথাও কোথাও সড়কের মধ্যে এখনো বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়ে গেছে। নালাগুলো পানি ঠিকমতো নামে না। রংপুর নগর প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পরও যেন এখনো পুরো নগর রয়েছে অগোছালো। নগরের শাপলা চত্বর হাজীপাড়া এলাকার লোকজন বলেন, তাঁর বাড়ির চারদিকে কয়েকটি বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। কিন্তু নিয়ম মেনে জায়গা ছেড়ে ভবন নির্মাণ করা হয়নি। গায়ে গায়ে ঘেঁষে ওঠা এসব ভবনের কারণে একটু বৃষ্টি হলেই বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। সিটি করপোরেশন থেকে কেউ এসব দেখভাল করে না।

তবে অপরিকল্পিত নগরায়ণের দায় নিতে চাইছে না রংপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা বলেন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ না থাকায় অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। সেই সঙ্গে বহুতল ভবন বা নগরের সৌন্দর্য রক্ষা করে নগর বিকাশে কোনো ধারণা ও কারিগরি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জনবল নেই সিটি করপোরেশনের। 

সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আট বছর আগে মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন দিয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এটি বাস্তবায়িত হয়নি। এর অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য সিটিতে বিশেষজ্ঞ লোকজন না থাকায় সমস্যা দেখে যায়। এরপরও নিজেদের সামান্য লোকবল নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। 

পরিবেশসহ সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ। তিনি বলেন, রংপুর হলো অপরিকল্পিত নগর। নগর শহরের মানুষের বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলার এখনই সময়। আর তা না হলে যেভাবে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, তাতে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠবে এই শহর। রংপুর নগরকে ঢেলে সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।