অনিয়ম, অনাচারের বিরুদ্ধাচরণ করাই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশ

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের ৪৫ বছর পূর্তি ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেছবি: প্রথম আলো

দেশে নানা অনিয়ম ও অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও প্রতিবাদী থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী (রনবী)। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের চারপাশে যেসব অনিয়ম, অনাচার হচ্ছে—এসবের বিরুদ্ধাচরণ করাই আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশ।’

মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের ৪৫ বছর পূর্তি ও বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে রফিকুন নবী এ কথা বলেন। শুরুতে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।

বছরের অন্য সময়ে ‘মঙ্গল’ শব্দ ব্যবহারে আপত্তি না থাকলেও বৈশাখ এলেই বিতর্ক তৈরি করা হয় উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে রফিকুন নবী বলেন, ‘বৈশাখ আসলে এক দিনের জন্য হলেও আমরা বাঙালি হয়ে যাই। কিন্তু মঙ্গল শব্দটি নিয়ে কতিপয় মানুষের ভীষণ আপত্তি দেখা যায়। এই আপত্তি কেন, সেটা নিশ্চয়ই আপনারা জানেন।’ তিনি আরও বলেন, মঙ্গল মানে মানুষের কল্যাণ-সুখ-শান্তির কামনা—এতে অমঙ্গলের কিছু নেই। বর্ষবরণের শোভাযাত্রাকে মঙ্গলশোভাযাত্রা বলতে আপত্তি কোথায়?

ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করে রফিকুন নবী আরও বলেন, ‘কোথায় যে ত্বকী হত্যা মামলার গিঁট লেগে আছে, সেটা আমরা বুঝতে পারি না। আমরা আশা করব অন্তত এই সরকারের আমলে ত্বকী হত্যার বিচারের রায় হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ। সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। সূচনা বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ভবানী শংকর রায়।

মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের ৪৫ বছর পূর্তি ও বর্ষবরণ উপলক্ষে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে
ছবি: প্রথম আলো

অনুষ্ঠানে রফিউর রাব্বি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের ৪৫ বছরের পথচলা লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস। কোনো শাসকগোষ্ঠীর অনুগত না থাকায় সব সময়ই নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। তবু লড়াই-সংগ্রাম করে অগ্রসর হতে হয়েছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তাঁরা মাঠে থেকে লড়াই-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন উল্লেখ করে রফিউর রাব্বি আরও বলেন, ‘আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল স্বৈরশাসনের অপসারণের মধ্য দিয়ে দেশে বৈষম্যহীন ও সমতার সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, একাত্তর সালের পরাজিত শক্তি আমাদের সংস্কৃতির ওপর আঘাত হেনেছে। তারা তৌহিদি জনতার নামে মব অপসংস্কৃতি সৃষ্টি করে তাদের নগ্ন মতবাদ চাপিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করে। আমরা স্পষ্ট করতে বলতে চাই, আমরা যেমনি চব্বিশের পরাজিত শক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দিতে চাই না; ঠিক একইভাবে একাত্তরের পরাজিত হায়েনা শক্তিকেও এই ভূখণ্ডে মাথা তুলে দাঁড়াতে দিতে চাই না। আমাদের সংস্কৃতির লড়াই অন্ধকারের বিরুদ্ধে, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিশুসংগঠক রথীন চক্রবর্তী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাবেক সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী, শিক্ষানুরাগী কাশেম জামাল, মফিজুল ইসলাম সারু, কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ, সংস্কৃতিজন অমিতাভ চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ, জিয়াউল ইসলাম, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মঞ্জুশ্রী দাস গুপ্ত, আবৃত্তিশিল্পী ফাহমিদা আজাদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা প্রমুখ।

পরে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটভুক্ত সংগঠনগুলো সংগীত, আবৃত্তি, কবিতাপাঠ, মূকাভিনয় ও নাটক পরিবেশনা করে।