স্থানীয় লোকজন, ওই নারীর পরিবার ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আখাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক আলী ও সহকারী উপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল আজিজ পুলিশের নারী সদস্যসহ ৮ থেকে ১০ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে ওই নারীর বাড়িতে যান। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে থানায় নেওয়ার জন্য টানাহেঁচড়া শুরু করেন। গ্রেপ্তারের কারণ জিজ্ঞাসা করলে এএসআই আজিজ তাঁকে বলেন, ওসি তাঁকে থানায় ধরে নিয়ে যেতে বলেছেন। টানাহেঁচড়ার একপর্যায়ে পুলিশের সামনেই ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন ওই নারী। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

পরে স্বজনেরা ওই নারীকে উদ্ধার করে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখানে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলামসহ বেশ কয়জন পুলিশ সদস্য পৌঁছান। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাত আটটার দিকে ওই নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাত ১১টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঢাকায় নেওয়ার সময় ওই গৃহবধূর সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন আখাউড়া থানার এসআই আবদুল সালেক। তিনি বলেন, ‘ওই গৃহবধূ মাদক ব্যবসায়ী। ওসি স্যার আমাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। চিকিৎসকেরা ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি।’

আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান বলেন, রোগীর রক্তচাপ অনেক কমে গিয়েছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আবদুল মোনেম বলেন, ‘ওই নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

ওই নারীর মা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মেয়েকে ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পুলিশের নারী সদস্যসহ ৮ থেকে ১০ পুলিশ সদস্য বাড়িতে আসেন। তাঁরা ওসির কথা বলে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য টানাহেঁচড়া শুরু করেন। অপমান সইতে না পেরে পুলিশের সামনেই বিষ পান করেন তাঁর মেয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের সামনে বিষ পান করলেও কেউ তাঁকে ফেরাতে আসেননি; বরং পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে পড়েন। তাঁর মেয়ের নামে কোনো মামলা বা কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। পুলিশ শুধু শুধু এ কাজ করেছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

আখাউড়া থানার ওসি আসাদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ওই নারীর সঙ্গে পুলিশের এক সদস্য আছেন। তাঁর অবস্থা এখন ভালো। গতকাল বিকেলে একটি জমি থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মালিক ওই নারী ও তাঁর স্বামী বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। ওই নারী মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা রয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে ওই নারী সুস্থ হোন। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।