ছয় মাসের সাজা এড়াতে বিদেশে পালিয়ে ছিলেন ৭ বছর
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় চেক প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা এক মামলায় ছয় মাসের সাজা পেয়েছিলেন মো. মাহফুজুর রহমান (৪০)। সেই সাজা থেকে বাঁচতে তিনি সাত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পালিয়ে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে ধরা পড়েছেন।
আজ সোমবার সকালে ফেনী সদর উপজেলার লালপুল এলাকার একটি বাসা থেকে মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাহফুজুর সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম সাতবাড়িয়া এলাকার জাকির আহম্মদের ছেলে।
থানার পুলিশ জানায়, ২০১৪ সালের চেক প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ফেনীর আদালতে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। কিছুদিন কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে তিনি গা ঢাকা দিয়ে গোপনে দুবাইয়ে চলে যান। আর আদালতে হাজির হননি। শুনানি শেষে আদালত ২০১৫ সালে মাহফুজুর রহমানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা দেন।
সোনাগাজী থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব আলম সরকার বলেন, আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়ার পর থানার কর্মকর্তারা মাহফুজুরের খোঁজে মাঠে নামেন। কিন্তু তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তাঁরা জানতে পারেন, মাহফুজুর টাকা পরিশোধের ভয়ে গোপনে দুবাইয়ে চলে গেছেন। সপ্তাহখানেক আগে এক সোর্সের মাধ্যমে আবারও জানতে পারেন দীর্ঘ সাত বছর পর মাহফুজুর দুবাই থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। ফেনীতে তাঁর এক আত্মীয়ের বাসায় উঠেছেন।
কয়েক দিন আগে মাহফুজুরকে ধরতে তিনি গভীর রাতে তাঁর গ্রামের বাড়িতে এবং সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানে গিয়ে খোঁজখবর নেন। পরে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর মুঠোফোন নম্বর ও ছবি সংগ্রহ করেন। তারপর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সেই মুঠোফোন নম্বরের সূত্র ধরে আজ ভোরে সদর উপজেলার লালপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খালেদ হোসেন বলেন, মাহফুজুরকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে ফেনীর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।