একপর্যায়ে সতেরদোন গ্রামের ছেলেরা মাঠটিকে নিজেদের দাবি করে রায়খলা গ্রামের ছেলেদের চলে যেতে বলে। কিন্তু রায়খলা গ্রামের ছেলেরা মাঠটি তাদের দাবি করে উল্টো সতেরদোন গ্রামের ছেলেদের চলে যেতে বলে। এ নিয়ে দুই গ্রামের ছেলেদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

উভয় গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতে পৃথক সভা করেন তাঁরা। এরপর আজ সকাল ১০টার দিকে উভয় পক্ষ দা–বল্লম–টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বুকে টেঁটাবিদ্ধ হন হুমায়ুন মিয়া। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কটিয়াদী থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রায়খলা গ্রামের মামুন মিয়া, মো. করিম, হেলিম মিয়া, রুবেল মিয়া, ভোলাক মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, বকুল মিয়া ও হানিফ মিয়াকে কটিয়াদী ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সতেরদোন গ্রামের অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাঁরা উপজেলা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন রায়খলা গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম সংঘর্ষের জন্য সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়াকে দায়ী করেন। শাহজাহান মিয়া সতেরদোন গ্রামের বাসিন্দা।

তাজুল ইসলাম বলেন, হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে সতেরদোন গ্রামের বাসিন্দারা বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রস্তুতি নেন। সকালে কয়েক শ মানুষ দা–বল্লম–টেঁটা নিয়ে একযোগে রায়খলা গ্রামে হামলা করেন। এ সময় রায়খলা গ্রামের অপ্রস্তুত বাসিন্দাদের কেউ কেউ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, আবার অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। এ সুযোগে গ্রামের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালান সতেরদোন গ্রামের লোকজন। পুরো ঘটনার নেতৃত্ব দেন শাহজাহান মিয়া।

অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মাঠ আমাদের। কিন্তু রায়খলা গ্রামের ছেলেদের অত্যাচারে আমাদের ছেলেরা টিকতে পারে না। মাঠ থেকে আমাদের ছেলেদের বের করে দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত।’ শাহজাহান মিয়ার অভিযোগ, রায়খলা গ্রামের লোকজন সতেরদোন গ্রামের বেশ কটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালান।

জানতে চাইলে কটিয়াদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মাহফুজ হাসান সিদ্দিকী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়। নিহত হুমায়ুনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন