নান্দাইলে প্রাচীন বটগাছ বাঁচাতে গ্রামবাসীর আকুতি
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গাংগাইল ফিশারিজ মোড় থেকে একটি পিচঢালা সড়ক চলে গেছে। মোড় থেকে কিছুটা এগিয়ে গেলে বিশাল একটি বটগাছের অবস্থান। গাছের গোড়ার পশ্চিম পাশে রয়েছে একটি পুকুর। গ্রামবাসীর মতে, বটগাছটির বয়স প্রায় ৩০০ বছর। সম্প্রতি এটি পুকুরের দিকে ধীরে ধীরে হেলে পড়তে শুরু করেছে। বটগাছটি রক্ষার জন্য কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা আজ বুধবার মানববন্ধন করেছেন।
আজ দুপুরে গাংগাইল গ্রামে ওই বটগাছের সামনে এই মানববন্ধন করেন তাঁরা। তাঁরা গাছটি পাশের পুকুরে হেলে পড়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায়, গ্রামের লোকজন সড়কের পাশে গাছের নিচে ব্যানার হাতে নিয়ে মানববন্ধন করছেন। তাঁরা গাছটি রক্ষায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। মানববন্ধনে উপজেলার গাংগাইল, গয়েশপুর, সুরাশ্রম ও পংকরহাটি গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন। এর আগে গত সোমবার গাংগাইল গ্রামের বাসিন্দারা নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল মনসুরের কাছে গাছটি রক্ষার জন্য লিখিত আবেদন দেন।
গত বছর বটগাছের পাশের কাঁচা রাস্তাটি পাকা করার সময় এক্সকাভেটর দিয়ে বটগাছের উপরিভাগের মাটি কাটা হয়েছিল। তখন বটগাছের মোটা মোটা শিকড় কাটা পড়ে। এতে গাছটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, গত বছর বটগাছের পাশের কাঁচা রাস্তাটি পাকা করার সময় এক্সকাভেটর দিয়ে বটগাছের উপরিভাগের মাটি কাটা হয়েছিল। তখন বটগাছের মোটা মোটা শিকড় কাটা পড়ে। এতে গাছটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। গোড়ার মাটি একটু একটু সরে যাওয়ায় গাছটি পশ্চিম পাশে পুকুরের দিকে হেলে পড়ছে। এতে সড়কের পশ্চিম প্রান্তে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া পংকরহাটি গ্রামের মো. ইসলাম উদ্দিন (৬৭) ও গয়েশপুর গ্রামের পল্লিচিকিৎসক আবদুর রহিম (৭২) বলেন, তাঁরা ছোটবেলা থেকে গাছটি একই রকম দেখে আসছেন। তাঁদের দাদারাও এই বটগাছ এ রকমই দেখেছেন বলে বলতেন। মুরব্বিদের মুখে বিশাল বটগাছটি ঘিরে অনেক গল্প শুনেছেন। ঐতিহ্যবাহী গাছটি রক্ষার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার দরকার।
আজ বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বটগাছটি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেও কমিটির কয়েকজন বটগাছটি রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। কমিটির সভাপতি ইউএনও মোহাম্মদ আবুল মনসুর গাছটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বটগাছটির পাশের পুকুরের মালিক মো. জাকির হোসেন বলেন, তাঁর পুকুরপাড়ের মাটি এমনিতেই ভেঙে পড়ছে। গাছের হেলে পড়া ঠেকাতে তাঁর পুকুরের পাড়ে পার্শ্বদেয়াল স্থাপন করার জন্য তিনি জায়গা দিতে রাজি আছেন।