এলজিইডি শ্যামনগর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা সড়কের দুই পাশে উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, শ্যামনগর মডার্ন স্কুল, নকিপুর এইচসি পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, গোপালপুর স্মৃতিসৌধ, শহীদদের মাজার, গোপালপুর পিকনিক কর্নার, কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক, কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার অফিসসহ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে উপজেলার বাদঘাটা, গোপালপুর, ভুরুলিয়া, যাদবপুর, সোয়ালিয়া, নুরনগরসহ কয়েকটি গ্রামের ৩০-৪০ হাজার মানুষ উপজেলা শহরে যাতায়াত করে থাকে। সর্বশেষ ছয় বছর আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, সড়কের পাশে নালা না থাকায় বৃষ্টির পানি সড়কের ওপর জমে থাকছে। এতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যেও যানবাহন চলাচল করায় সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মুক্তিযোদ্ধা সড়কটি দিয়ে ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যানসহ কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে মাঝেমধ্যেই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনায় নষ্ট হয়ে যায় যানবাহনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ। এ ছাড়া একটু বৃষ্টি হলেই এ সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। তখন হেঁটে চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে যায়।

স্থানীয় আশরাফুল ইসলাম জানান, এই সড়কের পাশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পিচঢালাই উঠে খানাখন্দের কারণে সড়ক উঁচু–নিচু হয়ে আছে। এ কারণে গাড়ি কিংবা অ্যাম্বুলেন্সে আসার সময় ঝাঁকুনিতে রোগীরাও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

সড়কের পাশের হোটেল ব্যবসায়ী আলমগীর আলম জানান, বৃষ্টি হলেই সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। ক্রেতাদের পানি অতিক্রম করে আসতে হয় বলে বিক্রি অনেক কমে গেছে।

শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ উজ্জামান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তা বেহাল হওয়ায় তাঁদের ভোগান্তির শেষ নেই। বারবার বলার পরও কর্তৃপক্ষের এই সড়ক উন্নয়নে কোনো মাথাব্যথা নেই।

উপজেলা প্রকৌশলী এস এম সাইদুজ্জামান জানান, মুক্তিযোদ্ধা সড়কটি সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংস্কার করা হয়েছিল। সড়ক ও এর দুই পাশে চওড়া নালা সংস্কার করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দেওয়া আছে। অনুমতি দিলে প্রকল্প করে পাঠানো হবে।