রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ফরিদুল আলম রায়ের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের নৈতিক শিক্ষার প্রশিক্ষণের অভাব ছিল বলে মন্তব্য করেন বিচারক।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন মামলার বাদী টেকনাফের কাপড় ব্যবসায়ী আবদুল গফুর।

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী দিলীপ কুমার দাশ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন।

আজ সকাল ১০টার দিকে জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে আসামিদের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আনা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

আদালতের আইনজীবী, তদন্তকারী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার সদর মডেল থানার পেছনের সড়ক থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদাপোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফের কাপড় ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাঁর স্বজনদের কাছে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দেনদরবারের পর ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় গফুরের পরিবার। টাকা পৌঁছে দেওয়া হলে পরের দিন ২৪ অক্টোবর ভোররাতে আবদুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। গফুরের স্বজনেরা ঘটনাটি মেরিন ড্রাইভে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাচৌকির কর্মকর্তাকে জানান।

রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীর ওই নিরাপত্তাচৌকি স্থাপন করা হয়েছিল। মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যরা মাইক্রোবাসে মেরিন ড্রাইভে সেনাচৌকিতে পৌঁছালে তল্লাশি করে মুক্তিপণের ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ডিবির এসআই মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাকি ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন সেনাসদস্যরা।

২০১৮ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডিবির সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই ডিবির সাত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি ডিবির সাত পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন