মৌসুমের শেষে দামি হয়ে উঠেছে কাঁঠাল, একেকটি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকায়
‘এক হাজার টাকার এই কাডল (কাঁঠাল) সিজনে দাম ১০ টাকাও না। কিছু গাছে শেষ সিজনে কাডল ধরে। এগুলা আমরা বেশি দামে কিন্না আনি। কাডলগুলার স্বাদও বেশি, কিনেও মানুষ বেশি দামে।’
গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী বাজারে আজ বুধবার দুপুরে একটি বড় কাঁঠাল দেখিয়ে এভাবেই বলছিলেন পাইকার বিল্লাল হোসেন। বুধবার সাপ্তাহিক হাটবারে তিনি আটটি কাঁঠাল নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। এগুলো আকারভেদে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এখন কাঁঠালের মৌসুম শেষ। ফলে কাঁঠালের রাজধানীখ্যাত শ্রীপুর উপজেলার বাজারগুলোতে আগের সেই কাঁঠালের স্তূপ নেই। শ্রীপুরের সবচেয়ে বড় কাঁঠালের বাজার জৈনাবাজারেও এখন কাঁঠালের দেখা পাওয়া যায় না। একই অবস্থা গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, নয়নপুর, বরমী ও মাওনা চৌরাস্তার বাজারে। কোথাও দু-একটি কাঁঠাল পাওয়া গেলেও দাম শুনে চমকে উঠছেন ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁঠালের মৌসুমে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত যে ফলটি গ্রামের বাজারে ১০ টাকাতেও বিক্রি হয়, মৌসুম শেষ হতেই সেই কাঁঠালই হয়ে উঠেছে বেশ দামি। গাছের ডালে টিকে থাকা দু-একটি কাঁঠাল এখন অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বুধবার শ্রীপুরের বরমী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট ফলের বাজারে কয়েকজন বিক্রেতা অল্প কিছু কাঁঠাল নিয়ে বসেছেন। কোনোটি ছোট, কোনোটি মাঝারি, আবার কোনোটি বেশ বড়। বিক্রেতারা জানালেন, মৌসুমের সময়ের তুলনায় এখন কাঁঠাল সংগ্রহ করাই কঠিন। তাই দামও বেড়েছে।
ধানমহল এলাকার পাশে ছোট-বড় ১৫টি কাঁঠাল নিয়ে বসেছিলেন পেশাদার কাঁঠাল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, তাঁর কাছে থাকা কাঁঠালগুলোর দাম ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিভিন্ন দামে এসব কাঁঠাল কিনে এনেছেন। তিনি বলেন, এই কাঁঠাল মৌসুমে কম দামে পাওয়া যায়। এখন বেশি দামে কিনে আনতে হয় তাঁদের। শেষ সময়ে গাছে যে কাঁঠাল ধরে, সেগুলোর স্বাদও ভালো। তাই মানুষ বেশি দাম দিয়েও কিনছেন। বড় একটি কাঁঠাল হাতে নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘এক দাম ১ হাজার টাকা, মিষ্টি বেশি, কোষ বড়, গন্ধ মধুর মতো।’
মৌসুমের শেষ দিকে কাঁঠালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ফল ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন বলেন, সব জাতের কাঁঠাল একই সময়ে ধরে না। কিছু জাতের গাছে মৌসুম শুরুর অনেক আগেই ফল আসে। আবার কিছু গাছে মৌসুমের শেষ দিকে কাঁঠাল ধরে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় এসব কাঁঠালের দাম স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়। ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘জাত বুঝে কাঁঠালগাছ রোপণ করতে পারলে কৃষকের লাভ অনেক বেশি হতে পারে। আগাম ও শেষ মৌসুমের কাঁঠালের চাহিদা থাকে।’
জৈনাবাজার এলাকার কাঁঠালের পাইকার সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কাঁঠালের সরবরাহ খুবই কম। কোথাও দু-একটি কাঁঠাল পাওয়া গেলেও শৌখিন ক্রেতারা উচ্চ দাম দিয়ে কিনে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, মৌসুমের শেষ দিকে পাওয়া কাঁঠাল তাঁরা কিনে ঢাকার কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে এসব কাঁঠালের আলাদা চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাওয়া যায়।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যে কিছু আগাম জাতের কাঁঠালের জাত উদ্ভাবন করে সেগুলোর চারা কিছু নার্সারিতে সরবরাহ করছে। এগুলোর মধ্যে কিছু জাত আছে ১২ মাসি। জাত বুঝে চারা রোপণ করতে পারলে কৃষকেরা কাঁঠালের ভালো দাম পেতে পারেন। তিনি বলেন, শ্রীপুরে এ বছর কাঁঠালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ মেট্রিক টন। গত বছরেও প্রায় একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তা অর্জিতও হয়েছে।