আটক করলেও পরে মানবিক কারণে বিজিবির পক্ষ থেকে ওই নারীকে ভারতে স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে বিজিবি-বিএসএফ আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সমঝোতা শেষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় স্বজনদের কাছে ফিরে যান জমিলা। গতকাল রাতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজিবি জানায়, গত ২২ জানুয়ারি বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর সীমান্তের ৯৩ নম্বর প্রধান খুঁটির কাছে জমিলাকে দেখে বিজিবির টহল দলের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই বৃদ্ধা জানান, তাঁর বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার পাথরাদহ গ্রামের পশ্চিমপাড়ায়। তাঁর স্বামীর নাম মৃত ফজলু। জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবি জানতে পারে, তিন মাস আগে জমিলা ভারত থেকে বাংলাদেশে ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

পরে মানবিক দিক বিবেচনা করে জমিলাকে ভারতে যেতে কোনো বাধা দেয়নি বিজিবি। তবে সীমান্তের ভারতীয় অংশে কর্তব্যরত ৮২ বিএসএফের মহাখোলা ক্যাম্পের সদস্যরা জমিলাকে ভারতে প্রবেশে বাধা দেন। পরে বিজিবির টহল দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলে বিএসএফের কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন, ওই নারীকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। এ অবস্থায় বিজিবি মুন্সিপুর কোম্পানি কমান্ডারের পক্ষ থেকে বিএসএফের মহাখোলা কোম্পানি কমান্ডারকে আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকের জন্য চিঠি দেন।

এদিকে বৃদ্ধা জমিলাকে ফেরত নেওয়ার জন্যে বিজিবির যশোর রিজিয়নের নোডাল অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাযহার ২৪ জানুয়ারি বিএসএফের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার নোডাল অফিসার ডিআইজি শ্রী অমিরেশ কুমার আরিয়াকে অনুরোধ করেন। এরপর গতকাল বুধবার বিএসএফের  ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। একই দিন সন্ধ্যার দিকে মুন্সিপুর সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে জমিলাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ মো. ইশতিয়াক বলেন, ভারতীয় নাগরিক জমিলা বেওয়াকে আটকের পর থেকে হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত দামুড়হুদা মডেল থানা–পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। তাঁকে নিরাপদে গতকাল সন্ধ্যায় ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ওই নারী কোন দেশের নাগরিক সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। বরং মানবিক কারণে তাঁকে গত চার দিন নিরাপদ পরিবেশে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।