লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের নেহেন্দা মৌজায় অবস্থিত ওই ১৪ বিঘা জমির মালিক চন্দননগর গ্রামের বাসিন্দা খালেকুজ্জামান তোতা। জমিগুলো তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। চন্দননগর ও নেহেন্দা গ্রামের ১৪ জন কৃষক তাঁর কাছ থেকে বর্গা নিয়ে চলতি মৌসুমে আমন ধান রোপণ করেন। তাঁদের খেতের ধানগাছগুলো থেকে আর ১০-১২ দিন পর শিষ বের হতো। গত শনিবার রাতের কোনো এক সময় নেহেন্দা গ্রামের আবদুস সামাদ ও তাঁর লোকজন অতিরিক্ত আগাছানাশক বা কীটনাশক ছিটিয়ে ধানগাছগুলো ঝলসে দেন। ওই ১৪ বিঘা জমি নিয়ে আবদুস সামাদের সঙ্গে খালেকুজ্জামানের বিরোধ চলে আসছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষি চন্দননগর গ্রামের একরামুল ইসলাম, আশরাফ ও বুলবুল বলেন, খালেকুজ্জামানের কাছ থেকে এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ছয়-সাত বছর ধরে তাঁরা ৩ জনসহ ১৪ জন কৃষক বোরো ও আমনের ধান আবাদ করছেন। গত শ্রাবণ মাসে ওই জমিতে আমনের চারা লাগান তাঁরা। আর কিছুদিন পর তাঁদের লাগানো ধানগাছ থেকে শিষ বের হতো। গত শনিবার বিকেলেও মাঠের ধানগাছগুলো সবুজ ছিল। রোববার সকাল থেকে তাঁদের খেতের ধানগাছগুলো হলুদ হয়ে যেতে শুরু করে। দিন যত গড়ায়, খেতের ধান ততই হলুদ হয়ে যায়।

জমির মালিক দাবিদার খালেকুজ্জামান বলেন, ‘১৯৬১ সালে নেহেন্দা মৌজার ওই ১৪ বিঘা জমি মান্দা উপজেলার লক্ষ্মীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত পূর্ণচন্দ্র সাহার কাছ থেকে আমি কিনে নিই। এক বছর আগে নটীপুকুর গ্রামের আবদুস সামাদ দাবি করেন, ওই জমিগুলো তাঁর এবং আদালতে রেকর্ড সংশোধনের একটি মামলা করেন।’

এ বিষয়ে আবদুস সামাদের ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা বিবদমান ওই সব জমির আশপাশেও যাইনি। নিজেরা ধানগাছ নষ্ট করে আমাদের ফাঁসানোর জন্য একটা নাটক সাজিয়েছে।’