তরুণকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি, পুলিশের অভিযানে পালাল অপহরণকারীরা

মেহেরপুরে অপহরণের শিকার মাহিদ হোসেন (বাঁয়ে) ও তাঁর বাবা আমির হোসেন। আজ বুধবার সকালে মেহেরপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনেছবি: প্রথম আলো

মেহেরপুরে অপহরণের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর এক তরুণকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের টেংরামি এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা তরুণের নাম মাহিদ হোসেন (১৮)। তিনি মুজিবনগর উপজেলার বাবুপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে ও একটি কীটনাশক কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়নের কোমরপুর এলাকা থেকে অপহৃত হন মাহিদ হোসেন।

পুলিশ জানায়, গতকাল রাত ৯টার দিকে দুই বন্ধু রিয়াদ ও জুনায়েদকে নিয়ে কোমরপুর গ্রামের একটি ফাস্ট ফুডের দোকানে যান মাহিদ হোসেন। খাওয়া শেষে সেখান থেকে পার্শ্ববর্তী মুজিবনগর উপজেলার বাবুপুর গ্রামের নিজেদের বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। কোমরপুর এলাকায় পৌঁছালে তাঁদের পথরোধ করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা। একপর্যায়ে রিয়াদ ও জুনায়েদকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মাহিদ হোসেনকে আটকে রাখে দুর্বৃত্তরা।

মাহিদ হোসেনের বাবা আমির হোসেন বলেন, তাঁর কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। বিষয়টি জানার পর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে রাতেই অভিযানে নামে। তবে মুক্তিপণের কোনো টাকা দিতে হয়নি।

মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ ইকবাল বলেন, মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার কথা বলে টেংরামি এলাকার একটি কৃষিজমির কাছে অবস্থান নেয় পুলিশের একাধিক দল। একপর্যায়ে অপহরণকারী দলের সদস্যরা সেখানে মুক্তিপণের টাকা নিতে গেলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এ সময় অপহরণকারীরা একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা মাহিদ হোসেনকে সেখানে ফেলে পালিয়ে যায়।

অপহরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয় বলে জানান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মাহিদ হোসেনকে উদ্ধার করা হলেও অপহরণকারী দলের কাউকে আটক করা যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, অপহরণকারী দলে সম্ভবত পাঁচ সদস্য ছিল। সবার মুখ ঢাকা থাকায় মাহিদ হোসেন কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি। এ ঘটনায় মুজিবনগর থানায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।