ষষ্ঠ শ্রেণির ভুক্তভোগী ছাত্র মাসুম বিল্লাহ ও বায়োজিদ জানায়, বেলা ১১টার দিকে তাদের শ্রেণিকক্ষের পাশের বারান্দায় দাঁড়িয়ে শিক্ষক মিঠুন কুমার মণ্ডল মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় শ্রেণিকক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী উচ্চ স্বরে কথা বলায় তিনি বিরক্ত হন। একপর্যায়ে রাগান্বিত হয়ে তিনি লাঠি হাতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে একে একে ৬৫ জনকে এলোপাতাড়িভাবে লাঠিপেটা করেন। তাঁর প্রহারে হাতে গুরুতর চোট পায় বায়োজিদ। পরে সে ছুটি নিয়ে বাড়িতে ফিরলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। উপজেলা সদরে চিকিৎসক আবদুল মজিদের চেম্বারে বায়েজিদের এক্স-রে করানো হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষককে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আবুল খায়ের মোহাম্মদ বাহাউদ্দীন

একপর্যায়ে মারধরের শিকার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ তাঁদেরকে শান্ত করেন।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মিঠুন কুমার মণ্ডল সাংবাদিকদের বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা হই-হুল্লোড় করায় তাদের শান্ত হতে বলেন। কিন্তু তারা কথা না শুনে উচ্চ স্বরে কথাবার্তা বলতেই থাকে। এ জন্য তাদেরকে কিছুটা শাসন করেন। এ সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এক ছাত্রের হাতে ব্যথা লাগে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

চিকিৎসক আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, হাতে আঘাত পাওয়া শিশু বায়োজিদের এক্স-রে করেছেন। হাত ভাঙেনি। তবে চোট পেয়েছে শিশুটি।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আবুল খায়ের মোহাম্মদ বাহাউদ্দীন বলেন, ঘটনার পরপরই এলাকার সুধীজনসহ অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনা করে বিষয়টি সুরাহা করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটাবেন না বলে শিক্ষক মিঠুন কুমার মণ্ডলের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষককে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মিঠুন কুমার মণ্ডলের সঙ্গে আর কথা বলা যায়নি। সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন