পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, আসমা আজ সকাল ১০টায় মতলব দক্ষিণ উপজেলার আশ্বিনপুর এলাকায় তাঁর কর্মস্থলে আসেন। বেলা দেড়টায় বাড়ি যাওয়ার জন্য আশ্বিনপুর এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। কিছু পথ অতিক্রমের পর উপজেলার নারায়ণপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে সিমেন্ট বহনকারী একটি ট্রাক সামনে থেকে ওই অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। আসমা ওই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। সেখান থেকে উদ্ধার করে আশপাশের লোকজন স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আম্মাই আমার জীবনের সব। মায়ের যত্নেই বড় হইছি। অনেক কষ্ট কইরা মা আমারে লেখাপড়ার খরচ দিছে। মাকে হারাইয়া আমার সব শেষ অইয়া গেল।
ফাহিম হোসেন, আসমা আক্তারের ছেলে

আসমার ছেলে ফাহিম হোসেন জানায়, আজ সকাল ৯টায় অফিসে যাওয়ার সময় মা জানিয়েছিলেন, কাজ শেষে দুপুর নাগাদই বাড়ি ফিরবেন। এসে সবার সঙ্গে দুপুরের খাবার খাবেন। এখন বাড়ি ফিরলেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে।

ফাহিম এ সময় আহাজারি করে বলে, ‘আম্মাই আমার জীবনের সব। মায়ের যত্নেই বড় হইছি। অনেক কষ্ট কইরা মা আমারে লেখাপড়ার খরচ দিছে। মাকে হারাইয়া আমার সব শেষ অইয়া গেল। মায়ের আশা ছিল, আমাকে লেখাপড়া করাইয়া অনেক বড় কিছু বানাইব। আমাকে ছাইড়া মা চইলা গেল। ওই ট্রাকটাই আমার সর্বনাশ করল। মাকে ছাড়া এহন আমি ক্যামনে বাঁচুম। কে আমার লেখাপড়ার খরচ দিব।’

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বিকেলে বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য নিহত নারীর লাশ চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সিমেন্ট বহনকারী ওই ট্রাকের চালক ও চালকের সহকারীকে আটক করা হয়েছে। ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তখনো মামলা হয়নি।