সি ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা ছিল বেলা ১টায়। এই পরীক্ষা দিতে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী শহরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট থেকে অটোরিকশায় ওঠেন খাদিজা আক্তার নামের এক ভর্তি-ইচ্ছুক। দুপুর ১২টার মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়। তিনি ও তাঁর মা ভিজে ভিজে আসেন ক্যাম্পাসে। বৃষ্টি ও যানজট পেরিয়ে খাদিজা ১৫ মিনিট আগে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেন। তাঁর মা রোকেয়া বেগম বলেন, সাহেববাজার থেকে আসতে তাঁদের সময় লেগেছে পাক্কা এক ঘণ্টা। পথে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। মা-মেয়ে ভিজে গেছেন। মেয়েকে কোনোরকমে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করিয়েছেন।

বৃষ্টি আর যানজটে বেশির ভাগ পরীক্ষার্থীকে এক-দুই কিলোমিটার দূর থেকে হেঁটে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসতে হয়েছে।

খাদিজার মতো অনেকেই ভিজে ভিজে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছেন। নাদিয়া ইসলামের বাবা আবদুল করিম স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু বিজ্ঞান ভবনের সামনে বৃষ্টিতে ভিজছিলেন। তিনি বলেন, ‘মেয়েকে ভিজে ভিজে পরীক্ষার হলে নিয়ে এসেছি। রাজশাহীতে অনেক দিন ধরে বৃষ্টি হয় না। গরমও বেশ ছিল। এ কারণে ছাতা আনা হয়নি। কিন্তু বৃষ্টি আজ সবাইকে ভিজিয়ে দিল। বৃষ্টি এসে তাঁদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।’

পরীক্ষার্থী মোমেনা রহমান তাঁর মাকে হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁর মায়ের কাছে পরীক্ষার প্রবেশপত্র ছিল। রবীন্দ্রনাথ একাডেমিক ভবনের সামনে পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে ভিজছিলেন। আর বারবার মাকে ফোন দিচ্ছিলেন। এ সময় ক্যাম্পাসে মুঠোফোনগুলোতে নেটওয়ার্ক ছিল না। পরীক্ষা শুরুর সাত-আট মিনিট পর তাঁর মা নাসিমা বেগম আসেন। তড়িঘড়ি করে প্রবেশপত্র দিয়ে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করান মেয়েকে। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে তাঁরা এক ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বৃষ্টিতে ভিজে আসার সময় তিনি মনে করেছিলেন মেয়ে তাঁর সঙ্গেই আছেন। পরে হাতছাড়া হয়ে যায়।

default-image

পরীক্ষার কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের রাস্তাগুলোতে প্রচণ্ড যানজট। এর মধ্যে বৃষ্টি আরও ভোগান্তি বাড়িয়ে দেয়। বেশির ভাগ পরীক্ষার্থীকে এক-দুই কিলোমিটার দূর থেকে হেঁটে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসতে হয়েছে। বেলা সাড়ে ৩টার পরীক্ষায় অংশ নিতে রাজশাহী নগরের তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকা থেকে এসেছিলেন রুদ্র হাসান। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। ছাতা মাথায় নিয়ে হাঁটছিলেন তিনি। বললেন, রংপুর থেকে গতকাল রোববার রাতে এসে তালাইমারী এলাকায় উঠেছিলেন। বিকেলে পরীক্ষায় অংশ নিতে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে যানজট আর বৃষ্টিতে পড়ে তাই হাঁটতে শুরু করেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে গত জুন ও জুলাই মাসে রেকর্ড করার মতো বৃষ্টি রাজশাহীতে হয়নি। মধ্য জুলাইয়ে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির নিচে নামেইনি। আজ বেলা ৩টা পর্যন্ত রাজশাহীতে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়া পর্যবেক্ষক এ এস এম গাওসুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, জুন ও জুলাইয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি (২৬ মিলিমিটার) আজ রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা কমে ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে এসেছে। সামনে আরও বৃষ্টি হবে। তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন