ইয়াছিন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপোর লরিচালক ছিলেন। বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামে। চার বোন তিন ভাইয়ের মধ্যে ইয়াছিন ছিলেন তৃতীয়।

ইয়াছিনের বাবা বদিউল আলম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে বিএম কনটেইনার ডিপোতে গাড়িচালকের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন ইয়াছিন। দুই বছর আগে পদোন্নতি পেয়ে ডিপোর লরিচালক হন। বিস্ফোরণের সময় ইয়াছিন ডিপোতেই ছিলেন।

ইয়াছিনের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বিস্ফোরণের দিন রাতে ডিপোতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ইয়াছিন। অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য তিনি মুঠোফোনে লাইভ দিয়েছিলেন। সেই লাইভ দেখে তিনি (ইউসুফ) তাঁর কাছ থেকে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানতে ফোন দিয়েছিলেন। তখন ইয়াছিন মুঠোফোনে বলেছিলেন, ‘আগুনের ভয়াবহতা অনেক। আমার জন্য দোয়া করিস।’ এর কিছুক্ষণ পর তাঁর লাইভ বন্ধ হয়ে যায়। মুহূর্তেই মুঠোফোনের পর্দা অন্ধকার হয়ে যায়। এর পর থেকে ইয়াছিনের খোঁজ মেলেনি।

ইয়াছিনের বাবা বদিউল প্রথম আলোকে বলেন, চার থেকে পাঁচজন মিলে সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপো, চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে তন্ন তন্ন করে ইয়াছিনকে খুঁজেছেন। কিন্তু কোনো খোঁজ পাননি। ছেলের খোঁজে চট্টগ্রামে গিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনাও দিয়ে এসেছিলেন।

অবশেষে নিখোঁজের পাঁচ মাস চার দিন পর ছেলের লাশ বুঝে পেয়েছেন বদিউল আলম। ডিএনএ পরীক্ষায় ইয়াছিনের লাশ শনাক্ত হওয়ার পর গত মঙ্গলবার ডিপোর কর্মকর্তারা বদিউল আলমকে ফোন করে ছেলের লাশ বুঝে নিতে বলেন। ফোন পেয়ে আজ ভোরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সীতাকুণ্ডে রওনা দেন। বেলা সোয়া একটায় ডিপো কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে ছেলের লাশের কফিন বুঝিয়ে দেয়।

বদিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, অনেক আগেই ছেলেকে জীবিত পাওয়ার আসা ছেড়ে দিয়েছেন। কয়েক দিন আগেও ছেলের খোঁজখবর নিতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। তখন জানানো হয়, আরও কয়েকটি লাশ আছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে জানানো হবে। তিনি বলেন, ‘অন্তত নিজেদের পারিবারিক কবরস্থানে আমার ছেলের কবর হবে। এটাই এখন সান্ত্বনা।’