মানিকগঞ্জে রাস্তা নিয়ে বিরোধ, ভাগনের হাতে খালা খুন

মানিকগঞ্জ জেলার মানচিত্র

বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা নিয়ে ঝগড়ার জের ধরে ভাগনের ইটের আঘাতে খালা খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বড়াইগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই নারীর নাম হারুনী বেগম (৪০)। স্বামী পরিত্যক্ত এই নারী দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন।

পুলিশ, ওই নারীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর হারুনী ছেলে বাবু মিয়া ও মেয়ে সুমি আক্তারকে নিয়ে বড়াইগ্রামে বাবার বাড়িতে থাকতেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে আলমগীর হোসেনকে নিয়ে হারুনীর বড় বোন বিমলা বেগমও বাবার বাড়িতে চলে আসেন। তাঁরা বাবার বাড়িতে পৃথক ঘরে বসবাস করছিলেন। তবে বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা নিয়ে মাঝেমধ্যে দুই বোন বিমলা ও হারুনীর মধ্যে ঝগড়া হতো।

আজ সকাল ১০টার দিকে রাস্তা নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে ভাগনে আলমগীর ইট দিয়ে খালা হারুনীর মাথায় আঘাত করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক হারুনীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন বলে জানান হারুনীর ছেলে বাবু মিয়া (২৩)। তিনি বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জে আসেন। এরপর কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। আজ দুপুরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর মাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকেলে মায়ের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। আজ সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত হারুনী বেগমের মেয়ে সুমি আক্তার (১৯) বলেন, আজ সকালে রাস্তা নিয়ে ঝগড়ার সময় আলমগীর তাঁর মায়ের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছেন। হত্যাকারীর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আলমগীর পলাতক। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আলমগীরের মা বিমলা বেগম বলেন, তাঁর সঙ্গে বোন হারুনীর রাস্তা নিয়ে ঝগড়া হয়। হারুনী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এতে সহ্য করতে না পেরে তাঁর ছেলে আলমগীর ইট নিক্ষেপ করলে তা হারুনীর মাথায় লাগে। পরে তিনি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত বোনকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রউফ সরকার বলেন, বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ইটের আঘাতে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আলমগীরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।