ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট জেলার দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর দলটির একাংশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনও হয়। শেষ পর্যন্ত একটি আসনে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি সাবেক এক সংসদ সদস্য (এমপি) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। অন্য আসনে ‘মনোনয়নবঞ্চিত’ নেতারা প্রার্থী না হলেও দলের বিরোধ এখনো মেটেনি।
মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে জয়পুরহাটের দুটি আসনে মোট সাতজন প্রার্থী থাকলেন। যদিও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১৪ জন। জয়পুরহাট–২ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপির সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফা। জয়পুরহাট–১ আসনে এই দুই দলের পাশাপাশি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের দুই অংশের দুজন প্রার্থী হয়েছেন।
জয়পুরহাট একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দুই আসনেই বিএনপি জয়ীহয়েছিল। এবারও দুটি আসনেই জয় পেতে জোর তৎপর দলটি। অন্যদিকে বিএনপির একসময়ের মিত্র জামায়াতও প্রথমবারের মতো জয়পুরহাটের দুই আসনেই বিজয় ছিনিয়ে এনে ইতিহাস গড়তে চায়।
দলীয় প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে সবাই মাঠে কাজ করছেন দাবি করে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলার দুই আসনেই আমাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত। মনোনয়ন নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, কিছুটা অভিমান আছে—সেটিও দ্রুত নিরসন হবে।’
জয়পুরহাট–১ (সদর–পাঁচবিবি)
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মাসুদ রানা প্রধান। তিনি জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁর বাবা প্রয়াত মোজাহার আলী প্রধান এই আসনের সাবেক এমপি। মনোনয়ন ঘোষণার পর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলিম ও পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল গফুর মণ্ডলের সমর্থকেরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তবে তাঁরা কেউ প্রার্থী হননি। তবে অভিমান এখনো রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘আগামী দু-এক দিনের মধ্য যেসব সমস্যা আছে, তা নিরসন হবে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সবাই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। কেউই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না।’
জয়পুরহাট–১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলের জেলা আমির মো. ফজলুর রহমান (সাঈদ)। বেশ আগে থেকেই জামায়াত এখানে প্রস্তুতি শুরু করে। এরই মধ্যে তারা কেন্দ্রভিত্তিক দল গঠন করেছে। সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ রক্ষার কাজও করেছেন তাঁরা। ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের পাশে রয়েছি। শান্তি প্রতিষ্ঠায় জনগণ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবেন বলে আশা করছি।’
তা ছাড়া এ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) তৌফিকা দেওয়ান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ওয়াজেদ পারভেজ বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন।
জয়পুরহাট–২ (আক্কেলপুর–কালাই–ক্ষেতলাল)
সাবেক সচিব আব্দুল বারীকে এখানে প্রার্থী করেছে বিএনপি। এলাকায় তিনি ‘ডিসি বারী’ নামেই বেশি পরিচিত। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফার অনুসারীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ, অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। গোলাম মোস্তফাসহ চারজন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্য তিনজন জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে গোলাম মোস্তফা ছাড়া অন্য দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ফলে তিনি ভোটের মাঠে থেকে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘২৫ বছরে ভোটারদের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের চাওয়াতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। আমি শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে আছি, থাকব।’
জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল বারী বলেন, দলীয় প্রার্থিতা ঘোষণার পর তিনটি উপজেলার দলের শীর্ষ নেতাদের সবাই দলের পক্ষে কাজ করছেন। যাঁরা আসেননি, তাঁরাও যোগাযোগ করছেন। দু–এক দিনের মধ্যে তাঁরাও একসঙ্গে কাজ করবেন। প্রচার শুরু হলে সবাই দেখতে পাবেন। গোলাম মোস্তফা একসময় এমপি ছিলেন। এ কারণে তাঁর কিছু লোক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে যাঁরা মনেপ্রাণে বিএনপি করেন, তাঁদের কেউই গোলাম মোস্তফার সঙ্গে থাকবেন না।
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম। তিনি জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। আসনটির তিন উপজেলাতেই দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতা চালিয়ে আসছে জামায়াত।