ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারার ক্ষেত্রে খালে জলাবদ্ধতা, মালামালের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়েছে। চলতি বছরের আগামী জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ কাজের ঠিকাদার ছাবদার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমবার চেয়ারম্যানকে কাজের স্থান দেখানোর জন্য ডেকেছিলেন তিনি। কিন্তু চেয়ারম্যান না বুঝেই কাজ উদ্বোধন করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে নানা জটিলতার পর আবার কাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ১৬ জানুয়ারি সকালে যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় কাজের ঠিকাদার, স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাব জর্জপন্থী না হওয়ায় উদ্বোধনের পরদিন থেকে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর এক সপ্তাহ পর আজ সোমবার দুপুরে ওই সেতুর নির্মাণকাজের আবার উদ্বোধন করা হয়।

এবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র সামছুজ্জামান অরুন এর উদ্বোধন করেন। তিনি সংসদ সদস্য সেলিম আলতাব জর্জের চাচা।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান খানের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক সামছুজ্জামান অরুনের বিরোধ চলছে। যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান খানের সমর্থক। তাঁদের এ গ্রুপিংয়ের কারণে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেতুটির নির্মাণকাজ দুবার উদ্বোধন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঠিকাদারের আমন্ত্রণে সেদিন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। কিন্তু আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তাঁর উদ্বোধন নিয়ে বির্তক সৃষ্টি হয়।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র সামছুজ্জামান অরুন দলীয় কোন্দলের বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ভুলবশত ইউপি চেয়ারম্যান কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। তবে আজ সংসদ সদস্যের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি কাজের উদ্বোধন করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আগে কী হয়েছে, তা জানা নেই। আনুষ্ঠানিকভাবে আজ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে কাজের অগ্রগতি শূন্য। তবে আশা করা যাচ্ছে, আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।